বিশ্বের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটি। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের জন্য প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক অঙ্গনে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। উচ্চমানের শিক্ষা, গবেষণার বিস্তৃত সুযোগ এবং বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রে শক্ত অবস্থানের কারণে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো শিক্ষার্থী এমআইটিতে ভর্তির স্বপ্ন দেখেন।
তবে স্বপ্নের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার আগে অনেকের জানার আগ্রহ থাকে, এমআইটিতে পড়তে খরচ কেমন? ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে এমআইটিতে পড়তে একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাব্য ব্যয়, আর্থিক সহায়তার সুযোগ এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ের তথ্য একনজরে দেখে নেওয়া যাক।
কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে
বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান কিউএস ওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ের ২০২৬ সালের র্যাঙ্কিংয়ে এমআইটি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ধরে রেখেছে। এটি ১০০-এর মধ্যে পূর্ণ ১০০ স্কোর পেয়ে টানা সপ্তমবারের মতো শীর্ষ স্থান দখল করে আছে।
বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নেও এমআইটির অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে এটি প্রথম, প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে দ্বিতীয় এবং সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে আছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সামগ্রিক মূল্যায়নেও বিশ্ববিদ্যালয়টি শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নেও এমআইটির অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে এটি প্রথম, প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে দ্বিতীয় এবং সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে। একাডেমিক সুনাম, গবেষণার প্রভাব, কর্মসংস্থানের ফলাফল, নিয়োগদাতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাতসহ বিভিন্ন সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়টি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে।
এমআইটির প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একজন স্নাতক শিক্ষার্থীর বার্ষিক মোট ব্যয় ৯২ হাজার ৭৬০ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে টিউশন ফি ৬৬ হাজার ৭২০ ডলার, স্টুডেন্ট লাইফ ফি ৪২০ ডলার, আবাসন ব্যয় ১৪ হাজার ৯০ ডলার, খাদ্য খাতে ৮ হাজার ১০৪ ডলার, বই ও শিক্ষাসামগ্রীর জন্য ৯৩০ ডলার এবং ব্যক্তিগত খরচ বাবদ ২ হাজার ৪৯৬ ডলার ধরা হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এই ব্যয় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। তবে ডলারের মূল্য ওঠানামার কারণে প্রকৃত ব্যয় কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
উচ্চ ব্যয় সত্ত্বেও এমআইটির অন্যতম বড় শক্তি হলো এর উদার আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। বিশ্ববিদ্যালয়টির নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনায় শতভাগ প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা দেওয়া হয়। এমআইটি শিক্ষার্থীদের প্রদর্শিত আর্থিক প্রয়োজনের পুরোটা পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ২ লাখ মার্কিন ডলারের কম এবং যাদের সম্পদ নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে, তাদের সন্তানেরা টিউশন ফি ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে আবাসন, খাবার ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্যও সহায়তা দেওয়া হয়। ফলে প্রকাশিত মোট ব্যয়ের তুলনায় প্রকৃত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এমআইটির বার্ষিক ব্যয়ের অঙ্ক প্রথম দেখায় অনেক বেশি মনে হতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রয়োজনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে।
তাই এমআইটিতে পড়ার স্বপ্ন থাকলে শুধু ব্যয়ের পরিমাণ দেখে নিরুৎসাহিত না হয়ে ভর্তির যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া এবং আর্থিক সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এই সহায়তার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন।