বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (বেরোবিসাস) এক যুগপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। আজ সোমবার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতার নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
এ সময় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম।
বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনন্দ র্যালি শেষে ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বেরোবিসাসের সভাপতি আবু সাঈদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের কখনোই রাজনীতিবিদের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করা উচিত নয়। বিভিন্ন টক শোতে অনেক সাংবাদিককে রাজনীতিবিদের মতো ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। এর পেছনে সুবিধাভোগী হওয়ার প্রবণতা কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কামরুল ইসলাম আরও বলেন, গণআন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থান যেকোনো দেশে ঘটতে পারে। কিন্তু এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় মসজিদের খতিব কিংবা জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কেন পালিয়ে যেতে হবে, সেই প্রশ্ন থেকে যায়। এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞান, যুক্তি ও মুক্তচিন্তার কেন্দ্র। এখানে সাংবাদিকতার ভূমিকা হওয়া উচিত গঠনমূলক সমালোচনা, তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ এবং ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. তাবিউর রহমান প্রধান এবং বেরোবিসাসের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান পুলক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর কয়েকজন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে বেরোবিসাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা, ক্যাম্পাসের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা মানুষের সামনে উপস্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটির পথচলা শুরু হয়।