ইলিশের প্রজননকালীন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার পেছনে নদী তীরের জনপদের জনপ্রতিনিধিরাই মূল মদদদাতা হিসেবে কাজ করেন। আবার জেলেদের খাদ্য সহায়তা বিতরণে নয়ছয় করেন তাঁরাই। ভোট ব্যাংক বানাতে জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন জায়গায় বাড়তি জেলের তালিকা করে রেখেছেন। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রান্তিক জেলেদের তালিকা তৈরি ও খাদ্যসহায়তা বিতরণের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে দিতে হবে।
আজ রোববার বরিশালে অনুষ্ঠিত ‘ইলিশসম্পদ রক্ষায় জেলে প্রতিনিধিদের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় জেলে প্রতিনিধিরা এসব অভিযোগ করেন।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি।
সংগঠনের সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আনিছুর রহমান তালুকদার, বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। বিভাগের ছয় জেলার জেলে প্রতিনিধিরা মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে মতামত দেন।
সভায় জেলেরা অভিযোগ করেন, জেলে তালিকা তৈরিতে ইউপি চেয়ারম্যানদের সম্পৃক্ত করায় তাঁরা এটাকে ভোট ব্যাংক বানিয়েছেন। নিজেদের পছন্দের লোককে তালিকাভুক্ত এবং খাদ্য সহায়তা দেন চেয়ারম্যান-মেম্বররা। খাদ্য সহায়তা পেতে জেলেদের কাছ থেকে ২০০-৩০০ টাকা করে ঘুষও নেন তাঁরা। এরপরও চাল দেওয়া হয় ৫ থেকে ১০ কেজি কম।
ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, বর্তমানে তালিকাভুক্ত জেলেদের অর্ধেকের বেশি প্রকৃত জেলে নন। ইউপি চেয়ারম্যানেরা ভোট ব্যাংক বানাতে জেলেদের তালিকাভুক্ত করে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, মুলাদীতে ১২ হাজার জেলে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে সেখানে ৫ হাজার জেলেও নেই। বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত জেলেরা। এ তালিকা দ্রুত সংশোধন করতে হবে।
জেলে সমিতির এ নেতা বলেন, ভোট এলে নৌকা বাইচ, হাডুডু করে জেলেদের খুশি রাখা হয়। কিন্তু এখন তো ভোট নাই, তাই জেলেদের কদরও না।
মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান সবুজ বলেন, কিছু ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কম পরিমাণ চাল বিতরণ করে পরিবহন খরচ তোলার অভিযোগ আছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটিতে জেলে প্রতিনিধি থাকে মাত্র ২ জন। যে কারণে ওই সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জেলেদের মতামতের প্রতিফলন হয় না।
এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আনিছুর রহমান তালুকদার বলেন, খাদ্য সহায়তা বণ্টনে মৎস্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো নীতিমালা নেই। অন্য দপ্তরের ভিজিএফ নীতিমালার ওপর তাঁদের চলতে হয়। আর এ সুযোগটি নিচ্ছেন প্রান্তিক পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা।