ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সতর্কতামূলক জ্বালানি তেল বিপণনের বিভিন্ন স্তরে আরোপিত রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহার করেছে সরকার। ফলে এখন থেকে আগের মতোই প্রয়োজনমতো পেট্রল, অকটেন, ডিজেল কেরোসিন সংগ্রহ করতে পারবেন ভোক্তারা।
আজ রোববার সকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানান।
অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘জনগণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে পালন এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় জ্বালানি তেল বিতরণে রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজ (১৫ মার্চ) থেকে সব বিতরণ পয়েন্ট থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিতরণ অব্যাহত থাকবে।’
বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ লাইনে সৃষ্ট সমস্যার ফলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ইতিমধ্যে কয়েকটি আমদানি করা তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ইরান যুদ্ধের কারণে আতঙ্কিত লোকজন বেশি তেল কেনা শুরু করলে ৬ মার্চ রেশনিং করা হয়। মোটরবাইকে ২ লিটার, স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল বা এসইউভি ও মাইক্রোবাস দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল বিক্রির আদেশ জারি করা হয়। কয়েক দিন পরে রাইড শেয়ারিং চালকদের ২ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়। একই সঙ্গে ২৫ শতাংশ রেশনিং থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়।
এদিকে রেশনিংয়ের কারণে সারা দেশে ফিলিং স্টেশনগুলোতে বিশৃঙ্খলা শুরু হওয়ায় এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তেল ব্যবসায়ীরা। গতকাল শনিবার খুলনা বিভাগে জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়। রাজশাহী বিভাগেও তেল উত্তোলন বন্ধের হুমকি দেন ব্যবসায়ীরা।