নতুন করে ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত ১০ শতাংশ হারে এই শুল্ক কার্যকর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এক নোটিশে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ১০ শতাংশের এই শুল্ক বলবৎ হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ১৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা এখনো বহাল আছে। তবে নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি। গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট দেশে দেশে আরোপ করা ট্রাম্পের উচ্চ মাত্রার শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করলে ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প আইনের আওতায় ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ী ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের পথ বেছে নিয়েছিল।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, উচ্চ হারের শুল্কে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যসহ একাধিক বাণিজ্য অংশীদারের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পরই ১৫ শতাংশের প্রয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সতর্ক করে, যুক্তরাষ্ট্র ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করলে যুক্তরাজ্যও যে কোনো বিকল্প বেছে নেবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে জাপান ও তাইওয়ানও উদ্বেগ জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে আলাপে জাপানের বাণিজ্যমন্ত্রী রিয়সি আকাজাওয়া অনুরোধ করেন, নতুন শুল্ক ব্যবস্থায় যেন জাপানি রপ্তানিতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। গত বছরের জুলাইয়ে এই দুই দেশের এক চুক্তিতে জাপানের গাড়ি রপ্তানিতে শুল্ক ২৭.৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামানোর সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামো ও শিল্পে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন ও বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল টোকিও। এ ছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মার্চে ওয়াশিংটন সফরের পরিকল্পনা করেছেন। সেই সময়টিতে আরও প্রকল্প ঘোষণার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার তাইওয়ানও নতুন করে আলোচনা চেয়েছে। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী চেং লি-চিউন জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সাম্প্রতিক শুল্ক চুক্তি পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে না। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ১৪৬.৮ বিলিয়ন ডলার; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে চিপ রপ্তানি বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। তাইওয়ানের যুক্তরাষ্ট্রমুখী রপ্তানির ৭৬ শতাংশই সেমিকন্ডাক্টর ও সংশ্লিষ্ট পণ্য, যা এখনো শুল্কমুক্ত। তবে নতুন শুল্কে মেশিন টুলস বা অর্কিডের মতো অন্যান্য পণ্য প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ১৫ শতাংশ শুল্ক প্রয়োগে বিলম্ব করায় সরকার ও ব্যবসায়ীদের জন্য ছাড় আদায় বা বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার একটি জানালা খুলে দিয়েছে। তবে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন—