ওয়াশিংটনে চলমান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন বৈঠক থেকে বিশ্ব অর্থনীতির এক অন্ধকার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আইএমএফ-এর অর্থনীতিবিদদের মতে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতির যে ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল, তা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো, এই ক্ষতির গভীরতা কতটা ভয়াবহ হবে।
আইএমএফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি আজ এই মুহূর্তে যুদ্ধ থেমে যায়, তবুও বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার আগের অবস্থায় ফিরবে না। যুদ্ধের শুরুতেই সরবরাহ শৃঙ্খল এবং জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার রেশ দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বকে বইতে হবে।
যদি এই সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো ধ্বংস হতে থাকে, তবে আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মাত্র ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আগামী বছর বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশ বা তার বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর ফলে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আইএমএফ-এর বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধাক্কা সব দেশে সমানভাবে অনুভূত হবে না। উন্নত দেশগুলোর তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই আঘাতের তীব্রতা হবে প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে যেসব দেশ আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো তাদের উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব ক্ষতির সম্মুখীন হবে। যুদ্ধের ফলে তেলের দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। আইএমএফ-এর মতে, এটি একটি ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ বা শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে, যা উন্নত বিশ্ব থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাম পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ছড়িয়ে দিচ্ছে।
আইএমএফ-এর এমডি এবং বিশেষজ্ঞরা সদস্য দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। নীতিনির্ধারকদের এখন একদিকে যেমন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, অন্যদিকে প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রাখার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা