হোম > অর্থনীতি

পিএমআই সূচক: অর্থনীতির প্রধান চার খাতের তিনটি অনিশ্চয়তায় ভরা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

দেশে ব্যবসার পরিবেশ এখনো অনিশ্চয়তায় ভরা। উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা চাইলেও তাঁদের ব্যবসা বড় করতে পারছেন না। কাঁচামাল, শ্রম, পরিবহন ও ইউটিলিটি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং মুনাফার ওপর চাপ পড়ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক অস্থিরতা ব্যবসায়িক আস্থা কমিয়ে দিয়েছে, যা অর্থনীতির বৃদ্ধিকেও দীর্ঘদিন ধরে অতি ধীরগতির ও নিম্নমুখী করছে।

ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের যৌথভাবে প্রকাশ করা পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্সের (পিএমআই) সবশেষ তথ্যে দেশের অর্থনীতির গতির এমন নিম্নমুখী হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। অর্থনীতির প্রধান খাত—কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা—এই চার খাত নিয়ে পিএমআই প্রস্তুত করা হয়। যেখানে খাতগুলোর সূচক ৫০-এর ওপরে থাকলে সম্প্রসারণ এবং নিচে থাকলে সংকোচন নির্দেশ করে।

এতে দেখানো হয়েছে, এই চার খাতের মধ্যে একমাত্র সেবা ছাড়া বাকি সব খাতেই প্রবৃদ্ধির অবস্থাই নরবড়ে। সবশেষ মার্চ মাসে সামগ্রিক সূচক নেমে এসেছে ৫৩ দশমিক ৫-এ, যা ফেব্রুয়ারি মাসের ৫৫ দশমিক ৭০ থেকে ২ দশমিক ২ পয়েন্ট কম। তবে সার্বিকভাবে গত কয়েক মাসের ধারাবাহিকতার চিত্র দেখিয়ে প্রতিবেদনে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি এখনো সম্প্রসারণ পর্যায়ে রয়েছে দাবি করা হলেও সেই গতি যে স্পষ্টভাবেই অতি ধীর ও নিম্নমুখী হয়ে পড়ছে, সেটিও প্রমাণিত হয়েছে।

মার্চের চিত্রে সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে, যেখানে দীর্ঘ সময় সম্প্রসারণের পর উভয় খাতেই দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। উৎপাদন খাত টানা ১৮ মাস প্রবৃদ্ধির পর প্রথমবারের মতো সংকোচনের মুখে পড়েছে। নতুন অর্ডার, রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও মজুত পণ্যের সূচক কমে যাওয়ায় এই খাতে গতি কমেছে। একইভাবে নির্মাণ খাত টানা দ্বিতীয় মাস সংকোচনে রয়েছে, যেখানে নতুন প্রকল্প ও কার্যক্রম কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ বিলম্বিত হওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

কৃষি খাতেও প্রবৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এক মাসেই এই খাতের পিএমআই সূচক ১৩ পয়েন্ট কমে ৫১ দশমিক ৬-এ নেমে এসেছে। যদিও খাতটি এখনো সম্প্রসারণে রয়েছে, তবে এই পতন সামগ্রিক সূচকে বড় প্রভাব ফেলেছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ইনপুট খরচে ধীরগতি দেখা গেলেও অর্ডার ব্যাকলগ কিছুটা শক্তিশালী রয়েছে।

অন্যদিকে সেবা খাত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। মার্চে এই খাতের সূচক সামান্য বেড়ে ৫৬ দশমিক ৪-এ দাঁড়িয়েছে, যা ধারাবাহিক ১৮ মাসের সম্প্রসারণকে নির্দেশ করে। মূলত রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মৌসুমি চাহিদা এই খাতকে কিছুটা সহায়তা করেছে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও এম মাশরুর রিয়াজ জানান, মার্চের সূচকগুলো অর্থনৈতিক গতি কমার ইঙ্গিত দেয়, যার প্রধান কারণ উৎপাদন খাতের দুর্বলতা। দীর্ঘ ছুটি, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিজনিত বৈশ্বিক চাহিদার অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

বিএসইসিতে নতুন কমিশন: পুঁজিবাজার সংস্কারে ১০ কর্মসূচি

বাজেট ২০২৬-২৭: ভ্যাট রিটার্নে শেষ হচ্ছে মাসিক হিসাবের চাপ

৩৮ দিনে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৬৭৮ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চুক্তি

আবার মার্কিন শুল্কের ভয়

ইপিবির প্রতিবেদন: মে মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ৭.০৯ শতাংশ

প্রত্যেক নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর আরও ১০–১২.৫% শুল্কারোপের পাঁয়তারা যুক্তরাষ্ট্রের

আবারও উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, তেলের দাম বাড়ল আরও ১ শতাংশের বেশি

পুনঃ তফসিল সুবিধার পরও বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা