হোম > অর্থনীতি > ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

নতুন গভর্নর নিয়োগ: ব্যবসায়ীরা আশাবাদী হলেও সংশয় অর্থনীতিবিদদের

রোকন উদ্দীন, ঢাকা

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের হঠাৎ নিয়োগে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করছেন, একজন পেশাদার হিসাববিদ ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি অর্থনীতি ও বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন।

তবে অর্থনীতিবিদেরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা রক্ষা, আর্থিক সংস্কার এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে সংশয় প্রকাশ করছেন।

গতকাল বুধবার ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে গার্মেন্ট ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। মো. মোস্তাকুর রহমান একজন এফসিএমএ হিসাববিদ ও সফল ব্যবসায়ী। তিনি নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠান হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, যাঁকে দেশের ইতিহাসে প্রথমবার একজন ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে দায়িত্ব দেওয়া হলো।

ব্যবসায়ী নেতারা নতুন গভর্নরের নিয়োগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘সরকারের এই নতুন ধারার পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা আশাবাদী, নতুন গভর্নর ব্যবসা-বাণিজ্যের চলমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে সক্ষম হবেন। এতে স্থানীয় ও বৈদেশিক বাণিজ্যে সুবিধা সৃষ্টি হবে, ফরেন এক্সচেঞ্জের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে এবং মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণও সহজ হবে।’

নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম জানান, ‘এটি দেশের ব্যবসায়ী সমাজের জন্য ইতিবাচক খবর। গভর্নরের পটভূমি আমাদের ব্যবসায়িক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আশা করছি, সরকারের উদ্দেশ্য পূরণ হবে।’

তবে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নতুন সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের কৌশল ও সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে পারত। হঠাৎ করে গভর্নর পদে পরিবর্তনে ভালো বার্তা যায় না। আর গভর্নরের পদটা সংবেদনশীল পদ। তাঁকে দেশের আর্থিক নীতি, বিদেশি ঋণ, দাতা সংস্থাসহ নানা পর্যায়ে যোগাযোগ রাখতে হয়। আগের গভর্নরের সময়ে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেক কাজ হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য যা খুবই প্রয়োজন।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু আর্থিক নীতিনির্ধারক নয়; এটি ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্থা। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যবসায়িক পটভূমির কাউকে বসানো হলে স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ব্যবসায়ীর স্বাভাবিক প্রবণতা হতে পারে বাজার ও করপোরেট স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যেখানে গভর্নরের প্রধান দায়িত্ব হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংক খাত ইতিমধ্যেই খেলাপি ঋণ, সুশাসনের অভাব ও রাজনৈতিক প্রভাবের মতো গভীর সংকটে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পেশাগত স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রক অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নিয়োগ সেই প্রত্যাশা পূরণ করবে, নাকি সংস্কারের ধারাকে পিছিয়ে দেবে—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।’

ঢাকায় এমিরেটসের কার্গো ফ্লাইট চালু এপ্রিলে

কথা কম বলতে চাই, কাজ বেশি করব: নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

বিক্ষোভে মনসুরের বিদায়, ব্যবসায়ী হলেন গভর্নর

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

দেশের রিটেইল চেইন ‘স্বপ্ন’র অংশীদার হচ্ছে জাপানের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান মিতসুই

মার্কিন শুল্ক নিয়ে সতর্ক ঢাকা, দেখেশুনে সিদ্ধান্ত

গভর্নর পরিবর্তন নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী

গভর্নর বদল নিয়ে দিনভর যা হলো

উদ্যোক্তা থেকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান