হোম > অর্থনীতি

আবদুল মোনেম সুগার: এলসি খোলায় আইনি ছাড় পেল খেলাপি প্রতিষ্ঠান

• শতভাগ মার্জিনে খুলতে পারবে ঋণপত্র

• খেলাপির তকমা শুনতে হবে না ৩৫৯ দিন

• আইনে খেলাপি ঋণের জামিনদারও খেলাপি

• আবদুল মোনেম ৬৯৮ কোটি টাকা খেলাপি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

খেলাপি হিসেবে বিবেচিত আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে শতভাগ মার্জিনে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিশেষ সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শোধনাগারটির উৎপাদন সচল রাখা এবং অপরিশোধিত চিনি আমদানি অব্যাহত রাখার স্বার্থে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডের অনুকূলে কোনো ব্যাংক শতভাগ মার্জিনে আমদানি এলসি খুললে সেই ক্ষেত্রে একই আইনের ২৭কক(৩) ধারার বিধান ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর হবে না।

তবে এ সুবিধার সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, এ ধরনের ঋণসুবিধার বিপরীতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে এ সুবিধা দেওয়া কোনো ব্যাংক সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।

এর আগে ৪৫৫ কোটি টাকার একটি খেলাপি ঋণের করপোরেট গ্যারান্টার হওয়ায় আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে একই আইনের আওতায় খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের জামিনদারও খেলাপি হিসেবে গণ্য হন এবং নতুন ঋণসুবিধা বা এলসি খোলার সুযোগ পান না। তবে একই আইনে বাংলাদেশ ব্যাংককে সরকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এ বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

সেই ক্ষমতা প্রয়োগের অংশ হিসেবে গত ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অনুমোদন চেয়ে চিঠি পাঠায়। পরে সরকারের সম্মতির ভিত্তিতেই এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের অন্যতম চিনি শোধনাগারটি সচল রাখা এবং কাঁচামাল আমদানি যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেড রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে আবদুল মোনেম লিমিটেডের একটি খেলাপি ঋণের করপোরেট গ্যারান্টার। আবদুল মোনেম লিমিটেডই আবদুল মোনেম গ্রুপের প্রধান প্রতিষ্ঠান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকসহ ২৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আবদুল মোনেম লিমিটেডের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৯৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু অগ্রণী ব্যাংকের পাওনাই ৪৫৫ কোটি টাকা। গত বছরের আগস্টে গ্রুপটি বিশেষ শর্তে এসব ঋণ পুনর্গঠনের আবেদন করে। পরে চলতি বছরের ৭ জুন শতভাগ মার্জিনে এলসি খোলার বিশেষ সুবিধা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়।

শোধনাগার কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদনে জানায়, অপরিশোধিত চিনি আমদানির জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে। প্রয়োজনীয় এলসি খুলতে না পারলে প্রতিদিন প্রায় ২৩ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে। একই সঙ্গে বর্তমানে দেশে হাতে গোনা কয়েকটি চিনি শোধনাগার পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে রয়েছে। ফলে কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হলে দেশের বাজারে চিনির সরবরাহেও ঘাটতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আইএফআইসি-সুইসকন্ট্যাক্টের নতুন উদ্যোগ

সোনার দামে বড় পতন, প্রতি ভরির মূল্য কত

সৌদিতে ফ্লাইট চলাচলে সীমাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে ২২ হাজারের বেশি যাত্রী

স্কুলের গণ্ডি না পেরোনো কারখানার শ্রমিকই হলেন চীনের সবচেয়ে ধনী নারী

আবারও কমল সোনার দাম, প্রতি ভরি কত

এলডিসি উত্তরণে ৩ বছর বাড়তি সময় পেল বাংলাদেশ

সরকারমুখী ব্যাংকিং, দ্বিমুখী চাপ

বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত সার্কুলার জারি

ইস্ট ওয়েস্টে সেমিনার: সিনিয়রদের মিডিয়া লিটারেসিতে সহায়তার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার

নভেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম জানাল সরকার