আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ১৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই মন্ত্রণালয়ে এক বছরের ব্যবধানে বরাদ্দ বাড়ছে ৫ হাজার ৪১১ কোটি টাকা।
এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ছাড়াও তার অধীনে রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এই দুই বিভাগের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ৮১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আর ডাক ও টেলিযোগাযোগে ১৫৪ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট এটি। এ দিন বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, ইন্টারনেট সেবার মান উন্নয়ন ও বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়নসহ ব্যাপক টেলিকম সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যে মোবাইল অপারেটর এবং ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সার্ভিস প্রোভাইডারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ফাইভজি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড গতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সরকার ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক স্থাপনসহ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সরকার গত ৪ মাসে ৪১ লাখ নতুন ফোরজি মোবাইল সংযোগ এবং ৪ লাখ উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ দিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, পরবর্তী প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক এবং মহাকাশ বিজ্ঞানে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে ঢাকা ও রাজশাহীর পাশাপাশি খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহে অত্যাধুনিক নভোথিয়েটার স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঢাকার নভোথিয়েটারকে আরও আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে বিজ্ঞান কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
তথ্য প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় এ খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অর্থ ’স্টার্ট-আপ তহবিল’ হিসেবে, নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে, নারী উন্নয়নে এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।