গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে মার্কিন ডলারের মান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডলারের দরপতন নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিলেও আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রাটির মান কমায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে এখন তাঁরা সোনা ও সুইস ফ্রাঁর দিকে ঝুঁকছেন।
গতকাল মঙ্গলবার আইওয়া অঙ্গরাজ্যে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের অর্থনৈতিক সাফল্য প্রচারের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ডলারের দরপতন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন। কিন্তু তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘ভালো’ বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্প উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, ডলারের অবস্থা ভালো। ডলারের মান দেখুন—আমরা যে ব্যবসা করছি, তার দিকে তাকান। ডলার খুব ভালো করছে।’
কিন্তু প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের পরপরই প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলারের মান ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায়। আজ বুধবার সকালে এটি আরও শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে। ইতিমধ্যে গত এক বছরে ডলারের মান প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। তবে গতকালের এই পতন ছিল ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এক দিনে সর্বোচ্চ দরপতন।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর ডলার এখন সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্পের অনিশ্চিত নীতিনির্ধারণ—যেমন গ্রিনল্যান্ড দখল করার হুমকি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা বিশ্ববাজারে নতুন করে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ফলে ডলারের ওপর থেকে আস্থা কমছে বিনিয়োগকারীদের।
ইন্টারঅ্যাকটিভ ব্রোকার্সের মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট স্টিভ সোসনিক বলেন, দুর্বল ডলার একটি মুদ্রার দুই পিঠের মতো। এটি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য ভালো, কারণ, তাদের বিদেশি আয় ডলারে রূপান্তর করলে বেশি লাভ হবে। কিন্তু এর ফলে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়বে, যা মুদ্রাস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ডলারের এই পতনে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সোনা ও অন্যান্য মুদ্রার দাম। প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ২০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। গত সোমবার প্রথমবারের মতো এটি পাঁচ হাজার ডলার স্পর্শ করেছিল। এক বছর আগে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর থেকে সোনার দাম প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে।
এ ছাড়া গত এক দশকের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে সুইস ফ্রাঁ। এ বছর এখন পর্যন্ত এর মান ৩ শতাংশ বেড়েছে। ডলারের বিপরীতে ইউরোর মানও ১ দশমিক ২ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। পাশপাশি শক্তিশালী অবস্থানে আছে পাউন্ড ও ইয়েন।
এদিকে ডলারের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই আজ মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ফেড) বছরের প্রথম সুদের হার ঘোষণা করতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সুদের হার কমানোর জন্য চাপ দিলেও ব্যাংকটি বর্তমানে তা অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।