১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।
তারেক রহমান মঞ্চের পাশে বসা বিগত ১৫ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে বলেন, ‘এই মানুষগুলো তাঁদের স্বজন হারিয়েছেন, শুধু আপনাদের ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে। তাঁদের এই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।’
দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে আসতে পেরে বক্তব্যের শুরুতে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন তারেক রহমান। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আগে প্রায় প্রতিবছর শীতের সময় আমি এই এলাকায় আসতাম। দুস্থ মানুষের জন্য কম্বল ও গরম কাপড় নিয়ে আপনাদের দ্বারে দ্বারে যেতাম। আজ অনেক বছর পর আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে।’
নির্বাচনী ইশতেহারের আদলে তারেক রহমান উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে বলেন, ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে সারা দেশে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দেন। দরিদ্র মানুষ ও কৃষকদের এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্র ঋণের বোঝা লাঘবে সরকারের পক্ষ থেকে তা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন।
দেশের প্রত্যেক গৃহিণীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে নারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষকদের সার, বীজ ও সহজ শর্তে ঋণের নিশ্চয়তা দিতে কৃষি কার্ড প্রবর্তন করা হবে।’
উত্তরাঞ্চলকে কৃষিনির্ভর এলাকা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা এই এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প-কলকারখানা গড়ে তুলব। বেকার যুবকদের কেবল শিক্ষিত নয়, বরং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে; যাতে তাঁরা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।’
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনে সকাল থেকে ঠাকুরগাঁও এবং আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। ঢাকঢোল পিটিয়ে, দলীয় প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে তৃণমূলের হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর হয়ে হেলিকপ্টারে করে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি মঞ্চে উঠে বক্তৃতা শুরু করেন। বক্তব্য শেষ করে দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে তিনি পুনরায় হেলিকপ্টারে নীলফামারীর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানেও আজ বিকেলে তাঁর একটি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।