বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পরিবারের প্রধান হিসেবে প্রত্যেক নারী একটি করে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এটি কেবল আর্থিক সহযোগিতা নয়, এটি মূলত নারীদের ক্ষমতায়ন। এই কার্ড আপনার হাতে থাকা মানে আপনার হাতে একটি শক্তি বা অস্ত্র থাকা; যা দিয়ে আপনি সমাজের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন।’
আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঠাকুরগাঁও সদরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ঈদগাহ আলিম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৯০ জন নারীর মাঝে এসব কার্ড বিতরণ করা হয়।
ফ্যামিলি কার্ডের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঞ্চে উপস্থিত জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ইঙ্গিত করে বলেন, ‘এই কার্ডের পরিকল্পনাটাই এমন যে ডিসি সাহেবও এটি পাবেন। কারণ, উনি একজন নারী। এমনকি আমার স্ত্রীও একটি কার্ড পাবেন। হতাশ হবেন না, “ওই ক্যানে পালেন, মুই ক্যানে পানুনি” (তিনি কেন পেলেন, আমি কেন পেলাম না)—এমন ভাবার কারণ নেই। ধৈর্য ধরুন, পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক নারীই এই কার্ড পাবেন।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমাদের পুরুষেরা অনেক সময় মা-বোনদের ঠিকমতো দেখাশোনা করতে চান না। কিন্তু হাতে যখন এই কার্ড থাকবে, তখন তাঁদের গুরুত্ব বাড়বে, তখন সবাই তাঁদের পুষতে (ভরণপোষণ করতে) বাধ্য হবেন।’
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমি এই মাঠেই আপনাদের কথা দিয়েছিলাম, সরকারে আসতে পারলে মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করব। আমরা কথা রেখেছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্যই হলো মায়েদের ক্ষমতায়ন করা। বর্তমানে দেশের ১৪টি ইউনিয়নে পাইলট (পরীক্ষামূলক) প্রকল্প হিসেবে এটি শুরু হয়েছে। শুরুতে কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে, এ জন্যই প্রাথমিকভাবে এই পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে; যাতে দ্রুত শুধরে নেওয়া যায়।’
সরকারের ২২ দিনের কার্যক্রমের খতিয়ান তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। আগামী ১৬ মার্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেই ওনার আব্বা জিয়াউর রহমান সাহেবের মতোই কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে খাল কাটা শুরু করবেন। সারা দেশে অসংখ্য খাল কাটা হবে। এই খাল কেটে বর্ষার সময় যে পানি হয়, সেই পানি আমরা জমা করে রাখব। আর খরার দিনে যখন আবাদ হবে, তখন আমরা সেই পানি নিয়ে ব্যবহার করব।’
মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এই উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁওয়ে বেশি দরকার হয় এটা (পানি)। আমাদের তো পানি নাই। টিউবওয়েলের পানি ছাড়া আমরা কি কোনো পানি পাই? পাই না। বরেন্দ্র একটা প্রজেক্ট আছে, সেখান থেকে কিছুটা পানি পাই। সেই সঙ্গে খালগুলো যদি আমরা পানি বোঝাই করে রাখতে পারি, কৃষিকাজের সুবিধা আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাব। এ ছাড়া কৃষকদের বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে, যা দিয়ে ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।’
ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, আমি কাজের মাধ্যমে সেই ঋণ শোধ করতে চাই। আগামী অর্থবছর থেকেই ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে ভর্তি শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পাস হয়েছে, দ্রুতই ভিসি (উপাচার্য) নিয়োগ ও ক্যাম্পাস চালুর কাজ শুরু হবে। বিমানবন্দর সচল করা হবে। এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে।’
বেকার যুবকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের শিক্ষিত ছেলেদের আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং দেওয়া হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই মাসে দুই-তিন লাখ টাকা আয় করতে পারেন। ১৫ বছরের অনিয়ম কাটিয়ে আমরা একটি সুন্দর ব্যবস্থা গড়তে চাই।’