হোম > সারা দেশ > ঠাকুরগাঁও

প্রণোদনা দিয়েও ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ছে না গম চাষ

সাদ্দাম হোসেন, ঠাকুরগাঁও 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের ভেলাজার ঘাটপাড়া এলাকা থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

একসময় দেশে গম উৎপাদনের অন্যতম প্রধান অঞ্চল ছিল ঠাকুরগাঁও। জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে গমের সোনালি শিষে ভরে উঠত কৃষিজমি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। উচ্চ মূল্যের ফসল ভুট্টার সঙ্গে প্রতিযোগিতা, শ্রমিক সংকট, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এই অঞ্চলের অনেক কৃষক এখন গম চাষ থেকে সরে আসছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। তবে বাস্তবে আবাদ হয়েছে মাত্র ২১ হাজার ২০০ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৪৫ টন। কিন্তু আবাদ কমে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একসময় গম উৎপাদনের বিচারে ঠাকুরগাঁও জেলায় দেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ গম আবাদ হতো। কৃষি বিভাগ বলছে, বর্তমানে গমের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বাড়ায় কৃষকেরা ধীরে ধীরে এই ফসল থেকে বিমুখ হয়ে পড়ছেন।

কৃষকেরা জানান, গম চাষে খরচ বেশি, লাভ তুলনামূলক কম। অন্যদিকে ভুট্টা, ধান কিংবা সবজিতে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই জমিতে গমের পরিবর্তে অন্য ফসল চাষ করছেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালান্দর ইউনিয়নের কৃষক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘গম কাটার কাম কেউ করতে চায় না। বাজারে ভালো বীজও পাই না। ৪০ শতক জমিতে গম লাগাইছি। শ্রমিক না পেয়ে এখন বাড়ির সবাই মিলে মাঠে নামছি গম কাটতে।’

সদর উপজেলার কহরপাড়া এলাকার কৃষক জামিরুলও একই সমস্যার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘গম আবাদ বাদ না দিয়া করমু? এখন তো গমের ফলনও ভালো হয় না। কাটা-মাড়াইয়ের মানুষও পাওয়া যায় না। এ জন্য গমের জমিতে ভুট্টা লাগাই দিছি।’

একই এলাকার কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে গম করতেই ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রি করলে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার বেশি পাওয়া যায় না। বিঘাপ্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকা লস হয়। এ জন্য ওই জমিতে এখন ধান লাগাইতেছি।’

শুধু গম নয়, আগের জনপ্রিয় ফসল পাটের আবাদও কমে গেছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকেরা। কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগে পাট কাইট্যা ওই জমিতে গম করতাম। কিন্তু কয়েক বছর ধইরা পাটের দাম নাই, গমেরও দাম নাই। তাই এই দুইটা ফসল বাদ দিয়া এখন ওই জমিতে মিষ্টিকুমড়া লাগাইতেছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, গম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে কয়েক বছর ধরে উঠান বৈঠক, ব্লক প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রণোদনা হিসেবে কৃষকদের মধ্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে। তবু গমের আবাদ বাড়ানো যাচ্ছে না।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আলমগীর কবির বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা কৃষকদের সব সময় গম চাষে উৎসাহিত করছি। বীজ, সারসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মাড়াইয়ের সমস্যা, ইঁদুরের উপদ্রব, শ্রমিক সংকট এবং অন্যান্য ফসলে বেশি লাভ হওয়ায় অনেক কৃষক গম চাষ থেকে সরে যাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ফলন কম এবং লাভ কম হওয়ায় কৃষকেরা তুলনামূলক উচ্চমূল্যের ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

ইউএনও কার্যালয় থেকে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজ ছিনতাই, বিএনপি নেতাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফ্যামিলি কার্ড কেবল সহযোগিতা নয়, এটি নারীদের ক্ষমতায়ন: মির্জা ফখরুল

নির্মাণাধীন ব্রিজের গর্তে পড়ে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে ২ যুবকের মৃত্যু

আমরা কখনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিইনি, দেবও না: মির্জা ফখরুল

পুলিশ হত্যার তদন্ত হয়েছে, প্রয়োজন হলে আরও তদন্ত হবে: মির্জা ফখরুল

সকাল ৯টার পরও রাণীশংকৈলে একাধিক সরকারি দপ্তরে তালা

ঠাকুরগাঁও: আলুর কেজি ৩ টাকা, দিশেহারা কৃষক

বালিয়াডাঙ্গীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশের গাড়ির ওপর পড়ল ট্রলি