সকালে মা-বাবার কবর জিয়ারত করে পৌনে ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে আসেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভোট দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘আমি ভোট প্রদান করেছি। সবেমাত্র ভোট শুরু হয়েছে। প্রত্যাশা তো অবশ্যই জয়। আমরা নিরঙ্কুশ জয় লাভ করব ইনশা আল্লাহ। সবে শুরু হলো, আমি এখন অন্যান্য সেন্টারগুলোয় যাব। গিয়ে দেখব কী অবস্থা, তারপরে আপনাদের কাছে আমি পরবর্তীতে বলব যে ভোটের পরিবেশ...’
সার্বিকভাবে পরিবেশ কেমন দেখছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাসা থেকে বের হয়ে কেবল প্রথম কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন তিনি। তাই এই মুহূর্তেই সার্বিক পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দ্য ফার্স্ট সেন্টার ইজ লাইক দ্যাট। আমার কাছে মনে হয়, নিঃসন্দেহে খুব উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে। দেখা যাক, আল্লাহ ভরসা।’
নির্বাচনে কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছেন না জানিয়ে এই প্রার্থী বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১১৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হলেও সাধারণ ভোটাররা উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট দিতে আগ্রহী। কোনো কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে তা নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনেরই।
জয়ের ব্যাপারে তিনি কতটা আশাবাদী, সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে দৃঢ়তার সঙ্গে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ‘তিনবার বললাম, শতভাগ।’ এ ছাড়া আবহাওয়া কিছুটা খারাপ ও বৃষ্টির ভাব থাকা সত্ত্বেও উপনির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। আসনটির ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে।
নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ এবং ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য। এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি বজায় রাখা ও যেকোনো অনিয়ম তদারকিতে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা মাঠপর্যায়ে তৎপর রয়েছেন। পুরো নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ মোট ১৭৭ জন দেশি ও স্থানীয় পর্যবেক্ষক।