ঠাকুরগাঁওয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৭ নেতা-কর্মীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন এই আদেশ দেন।
পরে আসামিদের হাজতখানায় নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হামলায় রবিউল ইসলাম নামের এক পুলিশ সদস্যের মাথায় আঘাত লাগে।
আহত পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলামের ভাষ্য, আসামিদের নিয়ে যাওয়ার সময় দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি আকস্মিকভাবে তাঁর মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যান। ঘটনার পর আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
মামলার বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৬ আগস্ট পীরগঞ্জ থানায় এসআই মো. আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে পীরগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আকতারুল ইসলামসহ ২০ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পীরগঞ্জের ভাকুরা ধনীপাড়া গ্রামে আকতারুল ইসলামের বাড়িতে গোপন বৈঠক করে আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দ করে ও দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহারভুক্ত ২০ আসামির মধ্যে ১৭ জন উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়েছিলেন। মেয়াদ শেষে আজ মঙ্গলবার তাঁরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তাঁর মক্কেলরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। মামলায় প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা ফেসবুকের ছবি ও স্ক্রিনশটে সুনির্দিষ্ট তারিখ বা তথ্য নেই। ছবিগুলো পুরোনো কিংবা এআই দিয়ে তৈরি বা পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।
শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, তাঁরা পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।