টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কাঁচাবাজারের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের পেরিফেরির জায়গা রাতের আঁধারে দখল করে ছাপড়া ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি কুব্বত আলী মৃধার বিরুদ্ধে। গত বুধবার রাতে এই জায়গা দখল করে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করা হয়। এই বিষয়ে হাট ইজারাদার কমিটি উপজেলা ও জেলা প্রশাসনে অভিযোগ দিলে আজ শনিবার বেলা ১১টায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শ্রমিক দল সভাপতি কুব্বত আলী মৃধা অবশ্য দাবি করেছেন, এই জমি হাল রেকর্ড মূলে তিনিই মালিক।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ। তিনি বলেন, পেরিফেরি আওতাভুক্ত জমিতে স্থাপনা করতে হলে সরকারের অনুমতি লাগে। তাঁরা সেই অনুমতি না নিয়ে রাতের আঁধারে দখল করেছেন।
স্থানীয় সূত্র বলেছে, মির্জাপুর কাঁচাবাজারে ৫ দাগে পেরিফেরিভূক্ত ৩ একর জমি রয়েছে। প্রতিবছর বৈশাখ মাসে সরকার নির্ধারিত নিয়মে পৌরসভা এক বছরের জন্য এই জমি ইজারা দেয়। চলতি বছরও ইজারা দেওয়া হয়েছে। হাট ইজারাদারের অনুমতি নিয়ে সেখানে বিপলু বাকালি, নিখিল বাকালী ও কানাই বাকালী নামের তিন ব্যবসায়ী কাঁচামালের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। প্রতি দিনের মতো গত বুধবার রাত ১১টার দিকে ওই তিন ব্যবসায়ী তাঁদের মালামাল ঢেকে বাড়ি যান। রাত ২টার দিকে উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি কুব্বত আলী মৃধা ও তাঁর চাচাতো ভাই শহীদ মৃধাসহ কয়েকজন সেখানে সিমেন্টের খুঁটি গেঁড়ে টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে জায়গা দখল করেন।
হাট কমিটি বলেছে, সরকারি বন্ধের দিনে প্রশাসনের অনুপস্থিতির সুযোগে রাতের আঁধারে জমি দখল করা হয়েছে। পরে কমিটির সভাপতি রাঙা সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সিকদার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে আজ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) টিনের ছাপড়া উচ্ছেদ করেন।
এ বিষয়ে শ্রমিক দল নেতা কুব্বত আলী মৃধা বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষের নামে এই দাগে সাড়ে ৩ শতাংশ জমির কাগজপত্র রয়েছে। হাল রেকর্ডও আমাদের নামে হয়েছে। এর মধ্যে এক শতাংশের মধ্যে আমরা দখলে রয়েছি। বাকি আড়াই শতাংশের মধ্যে ঘর নির্মাণ করেছিলাম।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ বলেন, পেরিফেরির জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন হলেও স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে সরকারের অনুমতি লাগে। তারা কোনো অনুমতি ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণ করায় তা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।