টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন বিদ্যুতায়িত হয়ে এবং অপরজন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দিবাগত রাতের মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে পিকনিকের নৌকায় বিদ্যুতায়িত হয়ে ইটভাটার শ্রমিক রংপুরের সাজ্জাত হোসেন ও শেরপুরের পাকুরিয়া গ্রামের খুজাউরা গ্রামের হাসমত মিয়ার ছেলে জিকুল মিয়ার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া নৌকাযোগে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে সুশান্ত রাজবংশী ও পাটজাগ দিতে গিয়ে রুস্তম আলী নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গাজীপুরের ভাওয়াল মির্জাপুর থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেড়া জমিদার বাড়িতে নৌভ্রমণে আসেন ৩০-৩৫ জনের একটি দল। সন্ধ্যার পর তাঁরা মির্জাপুর থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে বংশাই নদীর চাকলেশ্বর-থলপাড়া অতিক্রম করার সময় নদীর ওপর ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারের সঙ্গে নৌকায় থাকা কয়েকজন জড়িয়ে পড়েন। এতে এক নারীসহ ছয়জন আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বহুরিয়া ইউনিয়নের মুন্দিরাপাড়া অংশের নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ঝুলে থাকা তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে সুশান্ত রাজবংশী নামে এক জেলে নিখোঁজ হন। আজ সকালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।
অপরদিকে গোড়াই ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামে খালে পাটজাগ দিতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন রুস্তম আলী নামে এক বৃদ্ধ। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।
পিকনিকের নৌকায় বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত চারজন কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসক এ জি এম আব্দুল হাই।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।