টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গ, সহিংসতা ও প্রশাসনের নির্লিপ্ততার অভিযোগ তুলেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সখীপুর প্রেসক্লাবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের সমর্থকেরা সংবাদ সম্মেলন করেন। এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে পৌরসভার রাইদা ভিলেজে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীরের সমর্থকেরা সংবাদ সম্মেলন করেন।
বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট আসাদুজ্জামান বাবুল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরের ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা ধানের শীষের একাধিক নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও কর্মীদের মারধর করে এলাকায় ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাঁর দাবি, সালাউদ্দিন আলমগীরের বাসভবন রাইদা ভিলেজ বর্তমানে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় প্রশাসনের প্রতি ওই বাসভবনে অভিযান চালানোর দাবি জানান তিনি।
আসাদুজ্জামান বাবুল আরও বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে তাঁদের নির্বাচনী অফিস নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হলেও বাস্তবে তাঁরা নিজেরাই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত অফিস স্থাপন করেছেন। এসব বিষয়ে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে অফিসগুলো এখনো বহাল রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো একটি গুপ্ত ষড়যন্ত্রের অংশ।
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান আরও অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে অবৈধ মোটরযান ব্যবহার, হুমকি-ধমকি, অপপ্রচার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব বন্ধ না হলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সহসভাপতি আকবর হোসেনসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল দুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের পক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাঁর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বাচ্চু। তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খান ও তাঁর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন।
ফজলুল হক বাচ্চু জানান, বিএনপি প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে তাঁদের নির্বাচনী পথসভায় বাধা দিচ্ছেন। নির্ধারিত কর্মসূচির সময় একই স্থানে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছে এবং মিছিল-সমাবেশে হামলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কর্মীরা নিজেরাই তাঁদের নির্বাচনী অফিসে আগুন দিয়ে সেই দায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফজলুল হক বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করি, আমরা কখনো সহিংসতায় জড়াব না।’ এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এ সময় সখীপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ হাবীব, লাবীব গ্রুপের ডিএমডি মাহমুদুল আলম মনির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া এই আসনে আরও পাঁচজন প্রার্থী হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর (হরিণ প্রতীক), শফিকুল ইসলাম খান (দাঁড়িপাল্লা), নাজমুল হাসান রেজা (লাঙ্গল), আওয়াল মাহমুদ (কোদাল) ও আলমগীর হোসেন (প্রজাপতি)।