সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম ইন্নার মা ও স্ত্রী শাপলা আহমেদ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাঁরা অভিযুক্ত নেতার গ্রেপ্তার ও দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।
শরীফুল ইসলাম ইন্না দৈনিক আমার দেশ ও এনটিভির সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শরীফুল ইসলাম ইন্নার স্ত্রী শাপলা আহমেদ।
লিখিত বক্তব্যে শাপলা আহমেদ বলেন, ‘গত রোববার রাতে সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছানোয়ার হোসেন সানু আমার ছেলে সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাফিন আহমেদ জিসানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দেন। একই সঙ্গে তাঁকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করা হয়, যা একজন নারী ও মা হিসেবে সম্মানহানির শামিল।’
শাপলা আহমেদ বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। ওই পোস্টে ছানোয়ার হোসেন সানু প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম ইন্নাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। পরে শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণসভায় শাফিন আহমেদ জিসানের দেওয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সেখানে অশ্লীল মন্তব্য করা হয়। এরপর মোবাইলে ফোনে কল করে জিসানকে হত্যার হুমকি এবং আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করা হয়।’
শাপলা আহমেদ আরও অভিযোগ করেন, ছানোয়ার হোসেন সানু ও তাঁর অনুসারীরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম ও মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এতে সিরাজগঞ্জে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
শাপলা আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় ছানোয়ার হোসেন সানু ও তাঁর ভাই সনি আহমেদ শামীমকে গ্রেপ্তারে পাশাপাশি দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। একই দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন এলাকার মুক্তির সোপানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমরণ অনশনে বসার ঘোষণাও দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শাফিন আহমেদ জিসানের দাদি ও সাবেক কাউন্সিলর বেগম খালেদা মান্নান, জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম মিন্টু, সহপ্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১৪ মে শরীফুল ইসলাম ইন্না পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগে বলা হয়—‘প্রতিদিন আলোকিত’, ‘সমাচার প্রতিদিন সিরাজগঞ্জ’ ও ‘সিরাজগঞ্জ ভয়েস’ নামে কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত এপ্রিল মাসে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাত্তারকে নিয়ে দুটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকে ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে আব্দুস সাত্তারের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। পাশাপাশি আলী আশরাফ ও সোহেল রানাকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, এর আগেও আলী আশরাফের বিরুদ্ধে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল এবং প্রেসক্লাবের সভাপতিকেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দিয়েছিলেন।
লিখিত অভিযোগে শরীফুল ইসলাম ইন্না উল্লেখ করেন, তাঁর ওপর কোনো ধরনের হামলার ঘটনা ঘটলে এর দায় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাত্তার, আলী আশরাফ ও সোহেল রানাকে বহন করতে হবে।