যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র হয়েছে স্রোতও। প্রবল স্রোতের চাপে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব বাহুকা এলাকায় নদীর তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে ভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
রোববার সকাল থেকে ভাঙন রোধে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পূর্ব বাহুকা এলাকায় হঠাৎ বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ে। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীর পানি কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। এর মধ্যে নদীর তীব্র স্রোত তীর রক্ষা বাঁধের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। শনিবার বিকেলে হঠাৎ বাঁধের ব্লক ধসে পড়তে শুরু করলে অল্প সময়ের মধ্যে বড় একটি অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়।
বাহুকা গ্রামের বাসিন্দা মোক্তাল হোসেন বলেন, ‘শনিবার দুপুরে বাঁধসংলগ্ন জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখি নদীতীরের ব্লক ভেঙে নিচে নেমে যাচ্ছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিশাল একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পরে বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়।’
ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, ‘নদী আগেই আমার বাড়িঘর গ্রাস করেছে। এখন কোনোরকমে বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়ে আছি। আবার ভাঙন শুরু হলে কোথায় যাব? দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবশিষ্ট জমিও নদীতে চলে যাবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ৮ জুন থেকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি স্বাভাবিক হলেও প্রবল স্রোতের কারণে কয়েকটি এলাকায় তীর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্ট এলাকায় পানির উচ্চতা আরও ২ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। নদীর পানি ওঠানামার কারণে বাহুকা এলাকার তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ ধসে গেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। দু-তিন দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’