সিরাজগঞ্জ সদরের কমিউনিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সে অ্যাপেনডিক্স অপারেশনের পর সাবিনা খাতুন (২৪) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গৃহবধূর মৃত্যুর পর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সদরের পৌরসভার মুজিব সড়কের ১ নম্বর খলিফাপট্টি এলাকায় অবস্থিত কমিউনিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাবিনা খাতুন পৌর এলাকার জানপুর বটতলা মহল্লার আব্দুল গণির মেয়ে এবং একই এলাকার আসিফ আলীর স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩ মে অ্যাপেনডিক্সের সমস্যায় সাবিনা খাতুনকে কমিউনিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরদিন ১৪ মে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসক মুকুল হোসেন তাঁর অস্ত্রোপচার করেন এবং অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন জাকারিয়া হোসেন।
অপারেশনের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাঁকে বগুড়ার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে গতকাল সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ঢাকার উত্তরা জিনজিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
আজ বিকেলে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স সিরাজগঞ্জে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা পুরোনো কমিউনিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
নিহত গৃহবধূর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশনের জটিলতা ও ভুল চিকিৎসার বিষয়টি গোপন রেখেছে। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে ঘুরতে গিয়ে রোগীর অবস্থার আরও অবনতি হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে বারবার রক্ত দিতে হয়েছে।
চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই সাবিনা খাতুনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন স্বজনেরা। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে কমিউনিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সের পরিচালক মো. কামাল হোসেন বলেন, অ্যাপেনডিক্স অপারেশনের পর রোগী ‘ব্রেন স্ট্রোক’ করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়ায় পাঠানো হয়।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।