শেরপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ দীর্ঘ সাত মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তির এক সপ্তাহের মাথায় মারা গেছেন।
আজ বুধবার (৬ মে) হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোয়াজের বড় ভাই ব্যবসায়ী মো. আব্দুল খালেক। তিনি জানান, আজ বাদ আসর শেরপুর শহরের মীরগঞ্জ বারাকপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে মোয়াজের দাফন সম্পন্ন হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর শহরের মীরগঞ্জ এলাকার মাছ ব্যবসায়ী ফজু মিয়ার ছেলে আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ ছাত্রলীগের জেলা শাখার সদস্য ও শেরপুর সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
মোয়াজ শেরপুর সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে বিএসসি (সম্মান) সম্পন্ন করেছেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শেরপুর শহরে ছাত্র হত্যাসহ একাধিক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি তিনি।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিল থেকে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা তাঁকে আটক করে মারধরের পর সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পরে তাঁকে ধানমন্ডি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এরপর অস্ত্র মামলাসহ ঢাকায় দুটি ও শেরপুরের ছাত্র হত্যার তিন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দীর্ঘ সাত মাস ওইসব মামলায় ঢাকা ও শেরপুর জেলা কারাগারে থাকার পর গত সপ্তাহে জামিনে মুক্ত হন তিনি। তাঁর শারীরিক কোনো জটিলতা ছিল না।
গতকাল মঙ্গলবার তিনি ঢাকায় যান এবং লালবাগ এলাকার একটি বাসায় ওঠেন। আজ ভোরে হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে মৃত্যুসনদ হাতে পেলে সেটি আমরা আদালতে উপস্থাপন করব। পরে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় চার্জশিট থেকে মৃত ব্যক্তির নাম বাদ যাবে।’