হোম > সারা দেশ > শেরপুর

শেরপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় জামায়াত নেতা নিহত

শেরপুর প্রতিনিধি

রেজাউল করিম। ছবি: সংগৃহীত

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম মারা গেছেন। জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঞাও আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান জানান, সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মারা যান।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রেজাউল করিম রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

এর আগে ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে রেজাউল করিমসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল এবং ঝিনাইগাতী থানার ওসি নাজমুল হাসান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের সমর্থকেরা আগে থেকেই মঞ্চের সামনে চেয়ারে বসা ছিলেন। কিন্তু বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে দেরি করায় তাঁর সমর্থকেরা অপেক্ষা করছিলেন। ফলে তাঁরা অনেকেই চেয়ারে বসতে পারেননি। একপর্যায়ে মাহমুদুল হক রুবেল ও নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকেরা চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান।

এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এতে রেজাউল করিমসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। ঘটনাস্থলে একটি মোটরসাইকেলও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া দুজন সাংবাদিকও আহত হন এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বলেন, ‘পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকেরা জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়।’

বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, ‘জামায়াতের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর আগে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের দলের অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।’

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ মামলা করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিনাইগাতীর ইউএনও এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে চেয়ারে বসা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইউএনও-ওসিকে মঞ্চে রেখে সংঘর্ষে বিএনপি-জামায়াত, আহত ৩০

নকলায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন: শেরপুর-১ আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ ৩ প্রার্থীকে শোকজ

সংবাদ প্রকাশের পর ফের এসেছে নালিতাবাড়ীতে ‘ভোটের গাড়ি’

শেরপুর-২ আসনে ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়ন জটিলতা নিরসনে দোয়া ও মিলাদ

নালিতাবাড়ী ঘুরে গেল ভোটের গাড়ি, জানেন না শহরবাসী

শ্রীবরদীতে বন্য হাতির আক্রমণে বৃদ্ধ নিহত

শেরপুরের ৩ আসন: স্বতন্ত্রের চাপে বিএনপি

এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত

৮ মিনিট দেরি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পেরে অঝোরে কাঁদলেন এবি পার্টির প্রার্থী প্রত্যাশী