একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক কারবারের অভিযোগে অভিযুক্ত শাহিন মাদবর (৪০) অবশেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁকে আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-৮ ও র্যাব-১০-এর একটি যৌথ দল রাজধানীর লালবাগ থানার পলাশীর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে ডামুড্যা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখি করায় গত বছরের ২৬ এপ্রিল শরীয়তপুর জেলা শহরে দিনদুপুরে নাজমুল মাদবর (২৭) নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে কুপিয়ে আলোচনায় আসে শাহিন মাদবর। এর কিছুদিন পর শাহিন মাদবরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
সেই ভিডিওতে দেখা যায়, নাশকতা চালিয়ে শহর অস্থিতিশীল করে ফায়দা হাসিলের পরিকল্পনা করছেন শাহিন। তাঁর কাছে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র মজুত রয়েছে বলে দম্ভোক্তি করতে শোনা যায় শাহিনকে। আর এসব অপকর্ম করে পুলিশকে টাকা দিয়ে পার পাওয়া যায় বলেও দম্ভোক্তি করেন তিনি।
র্যাব জানায়, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকরি গ্রামে মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে সেলিম পাইক (৩২) নামে এক যুবককে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন শাহিন মাদবর ও তাঁর সহযোগীরা। আহত সেলিমকে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় সেলিমের বোন মাকছুদা বেগম বাদী হয়ে শাহিনকে প্রধান আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, শাহিন মাদবরকে আদালতে হাজির করা হবে। তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, শাহিন মাদবর বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক কারবারসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।