৩৭ দফা দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। গত বছরের জুনে আন্দোলন স্থগিতের বছর পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় নতুন করে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
আজ মঙ্গলবার কলেজের প্রধান ফটকের সামনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁরা দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট অগ্রগতি না দেখালে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২৫ সালের ২২ জুন কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ২৫ দফা, শিক্ষা উপদেষ্টা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে ১২ দফা মিলিয়ে মোট ৩৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন। ওই সময় অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করা, রেল ও সড়ক অবরোধসহ টানা কর্মসূচি পালন করা হয়। চার দিনের শাটডাউন কর্মসূচিতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।
আন্দোলনের চতুর্থ দিনে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সে সময় তৎকালীন অধ্যক্ষ, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবিগুলোকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। একটি পরিত্যক্ত হল সংস্কার, যৌথ কমিটি গঠন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর কথাও জানানো হয়।
পরে একই বছরে কিছু সংস্কারকাজ শুরু হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলনে নামেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কলেজে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, আধুনিক অডিটরিয়াম, আবাসিক হল বৃদ্ধি ও সংস্কার, বাস সরবরাহ, স্মার্ট ক্লাসরুম চালু, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, বিজ্ঞান বিভাগের আধুনিক ল্যাব, নতুন বিভাগ চালু, দখল করা জমি উদ্ধার, লাইব্রেরি উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদারসহ মোট ৩৭টি দাবি।
শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, ‘এক বছরেও আমাদের কলেজের প্রধান ফটকের গেট তৈরির কোনো অগ্রগতি নেই। শুধু আশ্বাস নয়, আমরা দৃশ্যমান কাজ চাই। এক বছরেও যদি কাজ না এগোয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’
আরেক শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর জুনে টানা আন্দোলনের পর দাবি মেনে নিয়ে দুটি বাস ও কিছু রাস্তার কাজ করলেও আমরা অন্যগুলোর কোনো অগ্রগতি দেখিনি। তাই আবার আন্দোলনে নেমেছি। দ্রুত দাবিগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল হোসেন মণ্ডল বলেন, ‘কলেজে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। ভবন রং করা, রাস্তাঘাট সংস্কারসহ বেশ কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু কাজ চলমান রয়েছে। বিশেষ করে প্রধান ফটক নির্মাণের কাজটি শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। এ বিষয়ে টেন্ডারের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’
আবুল হোসেন মণ্ডল আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অনেক দাবি ইতিমধ্যে কলেজের সামর্থ্য অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বাকি কাজগুলো ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু সরকারি প্রক্রিয়ার মধ্যে করতে হয়, তাই আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নতুন একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, লাইব্রেরি ভবন ও অডিটরিয়াম নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’