রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামে দুটি পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মূল্যবান মালপত্র লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে পাগলাপীর-ডালিয়া সড়কসংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে দুটি পরিবারের প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের দাবি।
জানা যায়, দীঘলটারী গ্রামের কেদার চন্দ্র সরকার ও গজেন্দ্র চন্দ্র সরকারের বাড়ির সদস্যরা মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকেই অস্বাভাবিকভাবে অসুস্থ ও ঝিমুনি অনুভব করতে থাকেন। এই কারণে তাঁরা দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে চুরি করে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান ঘরের দরজা-জানালা ভাঙা, আসবাব এলোমেলো এবং আলমারি ও শোকেসের জিনিসপত্র মেঝেতে ছড়িয়ে রয়েছে। বড় বড় ট্রাংক ও বাক্স ঘরের বাইরে ফেলে রেখে ভেতরের মূল্যবান মালপত্র নিয়ে গেছে চোরেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরের ভাঙা দরজা-জানালার কাঠ উঠানে পড়ে আছে। আলমারি ও শোকেসের ড্রয়ার খোলা অবস্থায় মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কাপড়চোপড় ও কাগজপত্র। বড় ট্রাংক ও বাক্স উল্টানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী গজেন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথা ভারী লাগছিল। বাইরে গিয়ে দেখি দরজা-জানালা ভাঙা। ঘরের জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। আমার দেড় ভরি স্বর্ণ, ৫০ হাজার টাকা, কাঁসার থালাবাসন এবং ২৫টি দামি শাড়ি নিয়ে গেছে।’
অন্যদিকে কেদার চন্দ্র সরকারের ছেলে জীবন কৃষ্ণ সরকার শুভ জানান, ‘সন্ধ্যার পর থেকেই বাড়ির সবাই অসুস্থ বোধ করছিল। বাবার অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় তাঁকে গ্রাম্য ডাক্তার দেখানো হয়। রাত ১২টার পর আমি ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে উঠে দেখি সব শেষ।’
জীবন কৃষ্ণ সরকার শুভ বলেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যে বাড়িতে বোন চম্পা রানীর ছেলের অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে গঙ্গাচড়া উপজেলার চম্পা রানী পরিবার থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা ও সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে আসে। সেগুলো ও আমাদের দেড় ভরি স্বর্ণ ও প্রায় ৬৫ হাজার টাকা ছিল। সবকিছুই নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।’
স্থানীয় বাসিন্দারা ধারণা করছেন, অচেতন করার জন্য কোনো চেতনানাশক ব্যবহার করা হতে পারে। একই রাতে পাশাপাশি দুই পরিবারে চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খলেয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মো. মেজবাহুল আলম বলেন, ‘যারা এই চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। এটাই প্রশাসনের প্রতি আমার দাবি।’
ঘটনাস্থল পরির্দশন করে পূজা উদ্যাপন পরিষদের রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি রামজীবন কুন্ডু বলেন, ‘আমরা কখনো চাইনি নির্বাচন-পরিবর্তী সময়ে এ রকম ঘটনা ঘটবে। এতে আমাদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর ছবুর বলেন, ‘চেতনানাশক স্প্রে করে বাড়িঘর লুটের অভিযোগ উঠেছে। আমাদের পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে আছে। ভুক্তভোগীরা এখনো থানায় অভিযোগ দেননি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন টিম ঘটনাটি তদন্ত করছে।’