উঠানে স্বজনদের ভিড়। চারদিকে শোকের মাতম। দুই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন লাকী বেগম। জ্ঞান ফিরলেই বিলাপ করে উঠছিলেন, ‘কেন মারল ওরে আমার স্বামীর, কী দোষ আছিল? বান্দি থুয়া চুরি করি সব নিয়া যাইছে। এখন কী নিয়া বাঁচব? ওরা কাক আব্বা কয়া ডাকবে? কায় হামাক দেখবে? ছাওয়াগুলোক মোর এতিম বানাই দিল?’
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার সকালে নিহত কৃষক মফিজার রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
নিহত মফিজার রহমান স্থানীয় সেচপাম্পের মালিক মো. আমজাদ আলীর ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে তিনি বিএডিসির সেচ ঘরে পাহারা দিতে গিয়েছিলেন। সকালে সেচ ঘর থেকে তাঁর পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, গভীর রাতে ট্রান্সফরমারের মালামাল চুরি করতে আসা দুর্বৃত্তরা বাধা পেয়ে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্য মোনয়ার হোসেন বলেন, মফিজার রহমানের স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। কৃষিকাজ করেই চলত তাঁর সংসার। বড় মেয়ে দশম শ্রেণিতে, এক ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে এবং পাঁচ বছরের ছোট আরেকটি ছেলে রয়েছে তাঁর।
বাড়ির উঠানে তখন ভিড় করেন প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনেরা। কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কেউ আবার নীরবে চোখ মুছছেন। ছোট দুই সন্তান মায়ের কান্না দেখে তাঁর গা ঘেঁষে বসে আছে।
প্রতিবেশী সিদ্দিক মিয়া ও মফিজ মিয়া জানান, মফিজার রহমান ছিলেন পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। সংসারের হাল ধরতেই দিন-রাত কাজ করতেন। তাঁর এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
নিহতের বড় ভাই মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমার ভাইকে না মেরেও তো চুরি করে নিয়ে যেতে পারত। আমরা এই খুনিদের বিচার চাই।’
ইউপি সদস্য তাহাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। একজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের মর্গে পাঠিয়েছি।’