লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা রেলস্টেশনের অদূরে চলন্ত কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনে হঠাৎ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রেনযাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ট্রেন থামিয়ে আগুন নেভানোয় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।
আজ দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের বিরল থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসা বুড়িমারী কমিউটার ট্রেনটি বিকেলে হাতীবান্ধা রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আসে। পরে হাতীবান্ধা উপজেলা রেলস্টেশন থেকে পাটগ্রামের দিকে ছেড়ে যায়। এ সময় প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চলন্ত এই ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগে।
ট্রেন চলার সময় হাতীবান্ধা রেলওয়ের পার্শ্ববতী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আগুন দেখে ট্রেনের পরিচালককে চিৎকার করে জানান। এ সময় ট্রেনের যাত্রীরাও ট্রেনে আগুন লাগার কথা শুনতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ট্রেনের চালক ট্রেন থামালে যাত্রীরা অনেকেই ছোটাছুটি শুরু করেন। পরবর্তীতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নেভানো হয়।
ঘটনাস্থলে হাতীবান্ধা উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ছুটে আসে। আধা ঘণ্টা পর ট্রেনটি পুনরায় বুড়িমারী স্থলবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ইমরান হাসান বলেন, ‘চলন্ত ট্রেনের চাকার ঘর্ষণে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি হয়ে ইঞ্জিনের মবিল চেম্বারে আগুন লেগেছিল। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’
হাতীবান্ধা রেলওয়ে স্টেশনে কোনো মাস্টার কর্মরত না থাকায় পাটগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার নুর আলম বলেন, ‘রেললাইনের সঙ্গে ট্রেনের চাকার ঘর্ষণে বুড়িমারী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লেগেছিল। ট্রেন থামিয়ে আগুন নেভানোর পর আবার ট্রেনটি পাটগ্রাম ও বুড়িমারীর উদ্দেশে চলাচল করে।’
বুড়িমারী কমিউটার ট্রেনের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেনে আগুন লেগেছে, মাদ্রাসা ছাত্রদের এমন চিৎকার শুনে ট্রেন থামানো হয়। চাকার সঙ্গে রেললাইনের ঘর্ষণে এমনটি হয়েছে। একটানা চললে এ রকম হতে পারে। পরে পানি দিয়ে আগুন নেভানো হয়। এটা বড় কোনো ঘটনা না। ট্রেন চলাচল আধঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল।’