হোম > সারা দেশ > রংপুর

ছোট কাঁধে বড় দায়: ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নপূরণে খেলনা বিক্রি করে রাশেদুল

শিপুল ইসলাম, রংপুর প্রতিনিধি

কালেক্টর সুরভী উদ্যানের সামনে খেলনা বিক্রি করছে রাশেদুল। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুর নগরীর ব্যস্ত সড়কে সন্ধ্যা নামলেই দেখা যায় ছোট্ট রাশেদুলকে। হাতে রঙিন বেলুন আর খেলনা নিয়ে রিকশায়, সড়কে থাকা পথচারীদের কাছে গিয়ে বিক্রি করে। তার ডাকে সাড়া দিয়ে অভিভাবকেরা বেলুন কিনে বাচ্চাদের দেন। মুহূর্তেই তাদের মুখে ফুটে ওঠে হাসি। কিন্তু যে শিশুটি এই আনন্দ বিক্রি করছে, তার নিজের মুখে হাসি খুব কমই দেখা যায়।

মাত্র ৯ বছর বয়সের রাশেদুল ইসলামের যখন বই-খাতা আর খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই সংসারের অনেকখানি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে তার। দিনের বেলায় স্কুল, আর সন্ধ্যা নামলে শহরের পথে পথে খেলনা বিক্রি—এভাবেই চলছে তার জীবনযুদ্ধ।

রাশেদুলের বাড়ি রংপুর নগরীর ইসলামবাগ এলাকায়। বাবা শামীম মিয়া অন্যত্র বিয়ে করে সংসার ছেড়ে চলে গেছেন আরও বেশ কয়েক বছর আগে। এর পর থেকে মা, নানি ও ছোট ভাইকে নিয়ে টিকে থাকার সংগ্রাম শুরু হয়। মা ও নানি অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনো রকমে চলে চারজনের সংসার। পরিবারের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে রাশেদুল নিজেই কাজে নেমে পড়ে।

সম্প্রতি রাশেদুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি টিনশেড ঘরে নানি ও মায়ের সঙ্গে থাকে রাশেদুল। ঘরের ভেতর একটি স্টিলের বক্স, দুটি চৌকি। চৌকির একপাশে কয়েকটি বই ও খেলনা বিক্রির সরঞ্জাম রাখা।

কালেক্টর সুরভী উদ্যানের সামনে খেলনা বিক্রি করছে রাশেদুল। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাশেদুলের মা রাশেদা বেগম বলেন, ‘স্বামী ছেড়ে যাওয়ার পর দুই ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। মানুষের বাসায় কাজ করি, কিন্তু ঠিকমতো খেতেও পারি না। ছেলের খাবার, পড়ার খরচ দিতে পারি না বলে ও নিজে কাজ শুরু করছে। সংসারে টাকার জোগান দিচ্ছে।’

নানি সবজা বেগমও একইভাবে বলেন, ‘সংসারের বড় দায়িত্ব এখন রাশেদুলের কাঁধে এসে পড়েছে। ওর মায়ের কষ্ট দেখে প্রথমে বাদাম বিক্রি করত। এখন খেলনা বিক্রি করে। স্কুলেও যায়। ওর বাবা দায়িত্ব নিলে এত কষ্ট করতে হতো না।’

সন্ধ্যায় দেখা গেল, কালেক্টর সুরভী উদ্যানের সামনে খেলনা বিক্রি করছে রাশেদুল। কথা প্রসঙ্গে জানায়, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ হেঁটে খেলনা বিক্রি করতে হয় তাকে। এতে শরীর ক্লান্ত হয়ে গেলেও থেমে যাওয়ার উপায় নেই। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার খেলনা বিক্রি করতে পারলে তার এতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে।

রাশেদুল বলে, ‘সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত হাঁটি। অনেক সময় পা খুব ব্যথা করে। বাসায় ফিরতে দেরি হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারি না, তাই মাঝে মাঝে স্কুলেও যেতে পারি না। আমি লেখাপড়া করে বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চাই। জানি না সেটা কতটুকু পারব, তবু চেষ্টা করে যাব।’

রাশেদুলের এই স্বপ্নের বীজ যেন মহিরুহ হয়ে উঠে সাফল্যের ফলভারে নত হয়ে যেতে পারে, তাই তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এক মহানুভব শিক্ষক। রংপুরের পিটিআইয়ের পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের সেই শিক্ষক তার অবস্থা দেখে তাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। বর্তমানে সে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। এখন সে দিনে স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করে, যদিও নিয়মিত হতে পারে না।

পিটিআইয়ের সেই শিক্ষক রিক্তা বেগম বলেন, ‘রাশেদুল যখন বাদাম বিক্রি করত, তখন তাকে একদিন স্কুলে আসতে বলি। আসলে তাকে বুঝিয়ে আমি ভর্তি করাই। এর পর থেকে তার সঙ্গে পথ চলা শুরু। সংসারের চাপের কারণে নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে না। একটু সহযোগিতা পেলে তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারে।’

রাশেদুলের পরিবার জানান, রংপুর নগরীর ইসলামবাগ এলাকায় যে ঘরটিতে মা, নানি ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস করে রাশেদুল, সেটি ভাড়া নেওয়া। সেখানেই তার বাবা শামীম মিয়া তাদের রেখে চলে যায়।

তবে সেই দুঃখ বা কষ্ট নিয়ে বসে না থেকে ঘুরে দাঁড়ায় রাশেদুলরা। শত বাধা, বিপত্তি তুচ্ছ করে আত্মমর্যাদা আর পরিশ্রম দিয়ে এগিয়ে যায় আলোর পথে। তারপর একদিন সত্যি সত্যি স্বপ্ন সফল করে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় সমাজে।

ওরা কাক আব্বা কয়া ডাকবে?

পীরগঞ্জে সেচ ঘর থেকে পা বাঁধা কৃষকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

বদরগঞ্জে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা: ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩

রংপুরে কিশোর গ্যাং সদস্যদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

৩৭ দফা দাবিতে ফের আন্দোলনে কারমাইকেলের শিক্ষার্থীরা

পরিবেশ সুরক্ষায় পীরগঞ্জে প্রশাসনের দেড় হাজার বৃক্ষরোপণ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন

দাম না পাওয়ায় আলু ফেলে দিচ্ছেন কৃষক, ৩ কোটি টাকার ক্ষতি

বাবাকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ, ফিরলেন না লিমন

জলাবদ্ধতা: খাল ভরাট, ড্রেন নিয়ে পরিকল্পনা নেই, বিপর্যস্ত রংপুর নগরী