সাধারণ সভার দাবিতে রংপুরে কর্মবিরতি পালন করেছেন মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা। কর্মবিরতি পালনকালে হারুন বাহিনীর লোকজনের মারধর করার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। এতে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে রংপুর-ঢাকা রুটসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল। পরে প্রশাসন ও রংপুর সিটি করপোরেশনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিয়ে সাময়িকভাবে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন শ্রমিকনেতারা।
আজ সোমবার সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সড়কে নেমে অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
শ্রমিকনেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রংপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। হাইকোর্টের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে ২ মে সাধারণ সভার তারিখ ঘোষণা করা হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। এর প্রতিবাদে ৩ মে মানববন্ধন থেকে ১০ দিনের মধ্যে সাধারণ সভা না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন শ্রমিকেরা।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হারুন চৌধুরীর নেতৃত্বে শ্রমিক ইউনিয়ন দখল করা হয়। এরপর একাধিকবার সাধারণ সভার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বারবার পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সফরসঙ্গী পরিবহনের শ্রমিক আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের একজন প্রতিনিধি দরকার। আমরা সাধারণ সভা চাই। কিন্তু হারুন সেটির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।’
আহত শ্রমিক শাহিন অভিযোগ করেন, পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি চলাকালে হঠাৎ করে হারুন বাহিনীর লোকজন এসে অতর্কিত হামলা চালান।
রংপুর শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান বাবু বলেন, ‘আমাদের শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। হঠাৎ করেই অপর পক্ষ হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির লোকজন রয়েছে।’
শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রংপুর মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিমুল বারি রাজ হারুন চৌধুরীকে মদদ দিচ্ছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিমুল বারি রাজ বলেন, ‘এটি শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানে আমাকে দোষারোপ করার কিছু নেই।’
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করা অনুচিত। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছি। পরে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন।’