নির্বাচনে থেকে সরে দাঁড়াতে পার্বত্য রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।
আজ রোববার শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে পহেল চাকমা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পহেল চাকমা বলেন, শনিবার রাতে দুই ব্যক্তি তাঁকে ডেকে নিয়ে নিজেদের একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী বলে পরিচয় দেন। তাঁরা বলেন, বিএনপি প্রার্থী দীপেন দেওয়ানকে তাঁদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমর্থন দিতে। ১৯ জানুয়ারির মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই হুমকিদাতা ব্যক্তিদের কাউকে চিনেন না। এ ঘটনায় তিনি ইতিমধ্যে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রেখে সুষ্ঠু তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, তাঁর নিরাপত্তা ব্যাপারে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা তাঁর নিরাপত্তা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
পহেল চাকমা বলেন, তাঁর বিশ্বাস কোনো রাজনৈতিক দলের মূলধারার নেতা-কর্মীরা এ ধরনের হুমকি বা সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। কেউ যদি পরিকল্পিতভাবে পাহাড়ের শান্ত পরিবেশ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে, তাহলে তা খুবই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
তিনি হুমকির বিষয়টি একটি নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিতসহ একজন প্রার্থী হিসেবে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি তাঁর সব সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীকে ধৈর্য ধরতে এবং কোনো ধরনের উত্তেজনা বা সহিংসতায় না জড়ানোর আহ্বান জানান। যেন কোনো প্রকার গুজব বা অপপ্রচার সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে। শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও আইনের পথেই এগোতে চান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী এ বিষয়ে আমার কাছে একটি আবেদনপত্র দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের যা নির্দেশনা রয়েছে, তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, তিনি তাঁর নিরাপত্তার ব্যাপারে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন। তবে একজন নাগরিক হিসেবে তিনি পুলিশের সহযোগিতা চাইতে পারেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটির ২৯৯ নম্বর আসন থেকে সাতজন দলীয় ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এবার নির্বাচনে আঞ্চলিক কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছে না।