বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি গত রোববার (১০ মে) ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘অবশেষে দপ্তর রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিণত হলো! মাশাআল্লাহ!’ এ কারণেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া উপসহকারী প্রকৌশলীর নাম সাব্বির রহমান। তিনি রাজশাহীতে বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়ের আইটি শাখায় কর্মরত।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান এক অফিস আদেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
অফিস আদেশে বলা হয়, সাব্বির রহমান ১০ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অবশেষে দপ্তর রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিণত হলো! মাশাআল্লাহ!’ শিরোনামে একটি লেখা পোস্ট করেন। পোস্টটি ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিএমডিএর চেয়ারম্যানের দৃষ্টিগোচর হয়। এতে করে চেয়ারম্যানসহ বিএমডিএর সুনাম ভীষণভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৯৩-এর ৩৭(খ) এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) অনুযায়ী তাঁর এমন কার্যকলাপ দাপ্তরিক শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং শৃঙ্খলা পরিপন্থী। এ জন্য তাঁকে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলো এবং মঙ্গলবার থেকে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সাব্বির রহমান খোরাকি ভাতা পাবেন। এ ছাড়া এ আদেশে তাঁকে বিএমডিএর রাজশাহী সার্কেল দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, বিএমডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাসান জাফির তুহিন। ৫ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সচিব পদমর্যাদায় তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিএমডিএ চেয়ারম্যানকে নিয়ে এমন স্ট্যাটাস দেওয়া এবং সাময়িক বরখাস্তের ব্যাপারে কথা বলতে উপসহকারী প্রকৌশলী সাব্বির রহমানকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সাব্বির রহমান স্বীকার করেছেন যে তিনি এই ধরনের স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এ জন্য তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’