হোম > সারা দেশ > সিরাজগঞ্জ

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সিফাতের ছোট্ট কাঁধে সংসারের দায়িত্ব

আব্দুল্লাহ আল মারুফ, কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ)

ঘড়ির কাঁটা বলছে সাড়ে ৬টা বাজে। সবে কর্মব্যস্ত হতে শুরু করেছে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের রসুলপুর বাজার। কেউ এসেছেন বাজার করতে, কেউ সকালের নাশতা করতে, কেউ আবার আদরের সন্তানের জন্য নাশতা কিনছেন। তবে এ সময় দম ফেলার ফুরসত নেই চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া সিফাত হোসেনের। ভোর থেকেই কাজে লেগে গেছে সে বাজারের এক চায়ের দোকানে।

সিফাতের বাবা মারা গেছেন। মা অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। অর্থাভাবে চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। মায়ের ওষুধের টাকা ও সংসারের হাল ধরতেই পড়াশোনার পাশাপাশি ভোরে ঘুম থেকে উঠেই চায়ের দোকানের কাজে লেগে যায় সিফাত। ২ ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক পায় ৫০ টাকা। এ টাকা আর অন্যদের সহায়তা মিলিয়ে মায়ের ওষুধ, কাঁচাবাজার ও নিজের পড়াশোনা খরচ চালাতে হয়।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রসুলপুর গ্রামের দিনমজুর মৃত মাসুদ রানার একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন। রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সে।

সিফাতের বয়স যখন ৪ মাস তখন তার বাবা মারা যান। মা শিল্পী খাতুন অন্যের বাড়িতে কাজ করে যে টাকা পেতেন তাতে এবং প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় কোনোমতে চলত মা-ছেলের সংসার। কিন্তু শিল্পী খাতুন কয়েক বছর ধরে শয্যাশায়ী হওয়ায় অন্যের বাড়িতে আর কাজ করতে পারেন না। এ জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়া সিফাতকে বাধ্য হয়েই চা-পরোটার দোকানে কাজ করতে হয়। 

সিফাত হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলে, মায়ের চিকিৎসা খরচ, কাঁচাবাজার ও নিজের পড়াশোনার খরচের জন্য প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ৫০ টাকার বিনিময়ে চায়ের দোকানে কাজ করি। এরপর খাওয়াদাওয়া শেষ করে বিদ্যালয়ে চলে যাই। 

প্রতিবেশীরা জানান, ছেলেটিকে দেখে অনেক মায়া হয় তাঁদের। এ বয়সেই দোকানে কাজ করে। আর তার সে টাকায় চলে সংসার। গ্রামের মানুষ নিজেদের জায়গা থেকে তাদের সাহায্য করে। কিন্তু তাতে আসলে কিছুই হয় না। বিত্তবান ও সরকারের প্রতি ছেলেটির পড়াশোনা ও তাদের সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানান এলাকাবাসী। 

সিফাত যে দোকানে কাজ করে তার মালিক আনোয়ার বলেন, ‘ছেলেটি আমার প্রতিবেশী। ওর বাবা অনেক আগেই মারা গেছে। ছেলেটা সম্পর্কে আমার চাচাতো ভাই। ওকে দিয়ে হালকা ধরনের কাজ করানো হয়। যেমন পানি আনা, প্লেট ধোয়া, চায়ের কাপ আনা-নেওয়া ও টেবিল মোছা। প্রতিদিন সকালে দেড় ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে ছেলেটিকে খাওয়ার জন্য পরোটা ও ৫০-৬০ টাকা দেওয়া হয়। ওই টাকা থেকে সিফাত কাঁচাবাজার, নিজের পড়াশোনার খরচ ও মায়ের ওষুধ কেনে। আমরা যারা প্রতিবেশী আছি তারা ওদের সব ধরনের সাহায্য করার চেষ্টা করি।’

সিফাতের মা শিল্পী খাতুন বলেন, ‘স্বামী মারা গেছে ১১ বছর ধরে। আগে শরীর ভালো ছিল। অন্য মানুষের বাড়িতে কাজ করে চলেছি। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর আর কাজ করতে পারি না। ছেলেটা বাধ্য হয়ে ৫০ টাকার বিনিময়ে কাজ করে। ছেলের টাকা ও দুই ভাইয়ের দেওয়া ২ হাজার টাকায় কোনোমতে সংসার চলে। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমার ছেলের পড়াশোনা ও আমাদের পরিবারের দায়িত্ব যেন নেয়।’ 

সিফাতের স্কুলের শিক্ষিকা শান্তি খাতুন বলেন, ‘ছেলেটির পরিবারটিকে শুধু দরিদ্র বললে ভুল হবে। একেবারেই অসহায়। এই অল্প বয়সে সংসারের হাল ধরার জন্য চায়ের দোকানে কাজ করছে সিফাত। তাও ৫০ টাকার বিনিময়ে। সিফাত শিক্ষার্থী হিসেবে ভালো। আমরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সুবিধা দিয়ে থাকি।’

জাপাকে প্রতীক দিলে রাজশাহীতে নির্বাচন হতে দেব না: এনসিপি নেতা

১৮ দিন পর অপহৃত গরু ব্যবসায়ীর লাশ মিলল পদ্মা নদীতে

জাতীয় নির্বাচনের আগেই শাকসু দাবি রাবি শিবিরের

এনসিপির রাজশাহী জেলা ও মহানগর কমিটির দ্বন্দ্বের জেরে দুই কমিটিই স্থগিত

নাটোরে আদালত প্রাঙ্গণে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আটক ৩

রাকসু জিএস আম্মারের ‘মানসিক চিকিৎসা’র দাবিতে ছাত্রদলের মানববন্ধন

আচরণবিধি লঙ্ঘন: জামায়াতের নায়েবে আমিরকে শোকজ

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে টানানো ব্যানার সরিয়ে আম্মারের ভিডিও পোস্ট

দেশকে পাল্টে দিতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ লাখ পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা