রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদারকে (৬২) পথ রোধ করে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পরিষদের এক সাবেক সদস্যের (মেম্বার) নেতৃত্বে আজ (১১ মার্চ) বুধবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা ইউপি চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন।
মারধরের শিকার আজাদ আলী নওপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর নান্দিগ্রাম ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ও শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম।
নওপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম বলেন, শ্যামপুর ওয়ার্ডে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান কার্ডের তালিকা দিয়েছেন। এই তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এতে এই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার রেজাউল ও বিএনপি নেতা আফাজের পছন্দ না হওয়া চেয়ারম্যান রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পথ রোধ করে তাঁরা মারধর করেন।
অভিযুক্ত রেজাউল ইসলাম চেয়ারম্যানকে মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘কার্ড করতে চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার আমার কাছে থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। এ জন্য রাস্তায় ধরে চেয়ারম্যানকে মারধর করেছি আমরা।’
নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার বলেন, ‘পরিষদ থেকে ইউএনও কার্যালয়ে যাওয়ার পথে পথে শ্যামপুর গ্রামে পথ রোধ করে সাবেক মেম্বার রেজাউল, আফাজ, বিপ্লব, বেলালসহ আরও ৫-৭ জন মিলে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এ সময় আমার কাছে থাকা দপ্তরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় তারা। তাদের কাছে টাকা দাবি করেছি, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি ভিজিএফ কার্ড পেতে সাবেক মেম্বার রেজাউলসহ ওরা কয়েকজন মিলে ২৪০ জনের নামের একটি তালিকা আমার কাছে দেয়। আমি তাদের আবদার পূরণ করতে পারিনি। এ জন্য আমাকে মারধর করেছে।’
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে চেয়ারম্যান ফোন দিয়েছিলেন। আমি চিকিৎসা নেওয়ার পর থানায় আসতে বলেছি।’
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশতুরা আমিনা বলেন, ‘ঘটনার পর চেয়ারম্যান আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি নিয়ম অনুযায়ী তাকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি।’