হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

ট্রেনে ব্যাগ রাখা নিয়ে তর্ক, বিদ্যুতের প্রকৌশলীকে হেনস্তা ২ নারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

ট্রেনের ভেতরে ব্যাগ রাখা নিয়ে বখাটে ডেকে প্রকৌশলীর ওপর হামলা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে এক প্রকৌশলীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্যাগ রাখা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে আত্মীয়স্বজন ও বখাটে ডেকে ওই প্রকৌশলীকে শারীরিক হেনস্তা করেছেন দুই নারী।

সোমবার (১৮ মে) রাত ৮টার দিকে পাবনার চাটমোহর স্টেশনে ওই দুই নারী ট্রেন থেকে নেমে যান। এরপর একদল বখাটে উঠে ওই প্রকৌশলীকে মারধর করে। এ ছাড়া প্রকৌশলীর আসনে বসা অন্য এক কিশোরকেও মারধর করা হয়।

ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম মামুনুর রশীদ। তিনি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রকৌশলী। ওই ট্রেনে ঢাকা থেকে রাজশাহী যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে মারধরের শিকার কিশোরের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। চাটমোহর স্টেশনে ওই ঘটনার পর ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে অপর ভুক্তভোগী কিশোরও তার বোনকে নিয়ে নেমে যায়। প্রকৌশলীসহ তাঁরা সবাই জ বগির যাত্রী ছিলেন।

ওই বগিতে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই প্রকৌশলী রাজশাহী আসার জন্য কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন। আর দুই নারী ওঠেন বিমানবন্দর স্টেশন থেকে। তাঁরা উঠে নিজেদের ব্যাগ রাখতে প্রকৌশলীর ট্রাভেল ব্যাগটি অন্য আরেক যাত্রীর ব্যাগের ওপর তুলে রাখেন। টাঙ্গাইলে এসে ওই যাত্রী এ নিয়ে প্রকৌশলীকে অপমানজনক কথা বলেন।

তখন প্রকৌশলী জানতে চান, তাঁর ব্যাগ কে সরিয়েছে? এ নিয়ে দুই নারীর সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। তখন ট্রেনে থাকা সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শামীম আহমেদ এসে মীমাংসা করে দেন। তিনি দুই নারীর সামনে বসে থাকা প্রকৌশলীর আসনও বদলে দেন।

এরপর ওই দুই নারী চাটমোহর স্টেশনে নামলেই একদল বখাটে ট্রেনে ওঠে। তারা গিয়ে প্রথমে প্রকৌশলীর আসনে থাকা কিশোরকে মারধর করে। পরে ভুল বুঝতে পেরে তাকে ছেড়ে প্রকৌশলীকে মারধর করে।

প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা জানান, ঘটনার সময় রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও তারা আসেনি। ট্রেনটি ছাড়ার আগমুহূর্তে হামলাকারীরা নেমে যায়। এরপর পুলিশ আসে। এরপর পরের স্টেশনে মারধরের শিকার কিশোর নেমে যায়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই নারী জ বগির ৬৪ ও ৬৫ নম্বর আসনে বসেছিলেন। শ্রীলেখা দাস নামের এক নারী টিকিট কেটেছিলেন। শ্রীলেখার মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। কিছুক্ষণ পর ওই নারীর ভাই পরিচয়ে সুদীপ্ত সাহা দীপ নামের একজন কল ব্যাক করেন।

সুদীপ্ত সাহা বলেন, ট্রেনে তাঁর বোন এবং স্ত্রী ভ্রমণ করছিলেন। তবে তিনি তাঁর স্ত্রীর নাম জানাতে চাননি। সুদীপ্ত সাহা ওয়ালটনের একজন কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেন, ওই প্রকৌশলী তাঁর স্ত্রী ও বোনকে উত্ত্যক্ত করেছিলেন। তাই মেরেছেন।

তবে এই কথা মিথ্যা বলে দাবি করেছেন প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘যারা হামলা করতে এসেছিল, তাদের দেখে সন্ত্রাসী মনে হয়েছে। এলাকায় হয়তো প্রভাব আছে, এ জন্য হামলা করেছে। ছোট ছেলেটা বেশি মার খেয়েছে। আমি ভেবে তাকে প্রচুর মেরেছে। পরে আমাকেও মারধর করে। এখন আইনি ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কায় তারা আমার নামে নেগেটিভ কথা বলছে।’

মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমি অন্য জেলায় থাকি, সরকারি চাকরি করি। যা হওয়ার হয়েছে। এখন আবার মামলা-মোকদ্দমা করে বিড়ম্বনায় পড়তে চাই না।’

ওই ট্রেনে দায়িত্বে থাকা এএসআই শামীম আহমেদ বলেন, ‘প্রথমে কথা-কাটাকাটি হলে আমরা মিটমাট করে দিই। ব্যাগ রাখা নিয়ে গন্ডগোল। উত্ত্যক্ত করার ঘটনা নয়। মিটমাট করে দিলেও এলাকায় গিয়ে লোকজন নিয়ে এসে দুই নারী এমন হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন।’

এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। ছোট ছেলেটাকে খুঁজে পাইনি। তবে প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি মামলা করতে চাননি। সে জন্য আমরা ওই দুই নারীর ব্যাপারেও আর খোঁজখবর নিইনি। মামলা করলে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাবে। তাঁদের সমস্ত তথ্যই রেলওয়ের সিস্টেমে আছে।’

স্টেরয়েড ও ব্রয়লার ফিডে মোটাতাজা হচ্ছে কোরবানির পশু, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. তসিকুল ইসলাম রাজা আর নেই

বাঘায় পদ্মার চরে ডাকাতের গুলিতে আহত ২ যুবক, নিখোঁজ ১

রাজশাহীতে ১২ ঘণ্টা পর বাস চলাচল স্বাভাবিক

রাজশাহীতে সাধুর আস্তানায় নারীকে বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ, মামলা

শ্রমিক ধর্মঘটে রাজশাহী থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ

শিশু হুমায়রা হত্যাকাণ্ড: সন্দেহভাজনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, বিক্ষোভ

গঙ্গা নদীর পানি পেতে জাতিসংঘ-বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে কমিশন দাবি

২১ ঘণ্টা পর শিশু হুমায়রার লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যাকাণ্ড

রাজশাহীতে এনসিপিতে যোগ দিলেন ৫০০ জন