রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) সংলগ্ন ফ্লাইওভার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন চন্দ্রিমা থানার ছোট বনগ্রাম এলাকার মো. শফিকুলের ছেলে সৌরভ মাকিব (১৯), শাহ মখদুম থানার ফিরশিং (ফকিরপাড়া) এলাকার মো. আলালের ছেলে মো. শিমুল আলী (২৫), এয়ারপোর্ট থানার বায়া পাকুড়িয়া এলাকার মো. হাসিবুল ইসলামের ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম (২১), একই থানার উমরপুর এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে মো. আশফিকুর রহমান (১৮) এবং বায়া পাকুড়িয়া এলাকার মো. মামুন হোসেনের ছেলে মো. সৈকত ইসলাম (২০)।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, বিকেলে তাঁরা রুয়েট ও রাবি-সংলগ্ন রাস্তায় অবস্থান করার সময় অভিযুক্তরা তাঁদের গতিরোধ করেন। এ সময় তাঁরা শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন, বাজে ভাষায় হুমকি দেন এবং তাঁদের হাতে থাকা ব্যাগগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে সেখানে একটি উসকানিমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে তাঁরা ‘মব’ তৈরির চেষ্টা চালান।
জানা গেছে, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীরা ফোন করে বিষয়টি জানালে মতিহার থানার উপপরিদর্শকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
এ সময় সেখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ডক্টর মো. আমিরুল ইসলাম কনক এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত হন।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা ডক্টর মো. আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পরপরই আমরা সহকারী প্রক্টরসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই এবং পুলিশকে অবহিত করি। শিক্ষার্থীদের হেনস্তা ও ছিনতাইয়ের চেষ্টার মতো অপরাধে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাবি শিক্ষার্থীদের হেনস্তা ও ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে আমরা পাঁচজনকে আটক করেছি। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মতিহার থানা-পুলিশের একটি টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে। বর্তমানে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।