রাজশাহী নগরের পাঁচটি মহল্লায় চার দশক ধরে বসবাস করা অন্তত ৭৫০ পরিবার হঠাৎ উচ্ছেদের মুখে পড়েছে। জমির মালিকানা দাবি করে ওয়ারিশদের উদ্যোগে গত রোববার অভিযান চালিয়ে ২৩টি ঘর ভেঙে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পরে উচ্ছেদ বন্ধ হলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, আবুল হাসেম ও মাইনুল হক নামের প্রয়াত দুই ব্যক্তির ওয়ারিশেরা তাঁদের বাসস্থান নিজেদের দাবি করছেন। কিছু জমির জন্য আদালত থেকে রায়ও নিয়ে এসেছেন। রোববার অ্যাডভোকেট কমিশন ও পুলিশ নিয়ে তাঁরা উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলে বাসিন্দারা জানতে পারেন, এখনই জমি ছাড়তে হবে তাঁদের।
এই পরিবারগুলোর বাস নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়া, বড়বনগ্রাম, চকপাড়া, ভাড়ালিপাড়া ও পাবনাপাড়া মহল্লায়। এর মধ্যে বড়বনগ্রামে ৮টি, চকপাড়ায় ২৫টি এবং রায়পাড়া, ভাড়ালিপাড়া ও পাবনাপাড়ায় প্রায় সাত শতাধিক পরিবারের বাস। রোববার দুপুরে প্রথমেই বড়বনগ্রামের ৮টি বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। পরে পাবনাপাড়ারও ১৫টি বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়।
এলাকার লোকজন জানেন, নগরের ষষ্ঠীতলা এলাকার মৃত মাইনুল হকের ছেলে আজমল হক সাচ্চু এই জমি দখলে নিচ্ছেন। তবে উচ্ছেদ মামলার নথিপত্রে দেখা গেছে, মামলায় মোট বাদী ২০ জন। আর বিবাদী করা হয়েছিল ১৩২ জনকে। তবে মহল্লাবাসীর দাবি, তাঁরা যে এমন মামলার বিবাদী, তা তাঁরা জানতেনই না। তাঁরা কখনো কোনো নোটিশও পাননি।
আজমল হক সাচ্চুর দাবি, এলাকায় তাঁদের মোট ৭৬ বিঘা জমি রয়েছে, যার মধ্যে ২০ বিঘা তাঁদের দখলে। অর্পিত হওয়া ১৭ বিঘা ফেরত পেতে হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে এবং বেদখল হওয়া আরও প্রায় ৪০ বিঘা জমির দখল পেতেও আদালতে তাঁরা রায় পেয়েছেন।
১৫ এপ্রিল জেলা জজের কার্যালয়ের নেজারত বিভাগের সিভিল সিনিয়র জজ দখল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন পদমর্যাদার ৬০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েনে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনারকে একটি চিঠি দেন। এতে বলা হয়, ১৯, ২০ ও ২১ এপ্রিল উচ্ছেদ অভিযান চলবে। এই কার্যক্রমে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আদালত থেকে নাসির আহমেদ নামের একজনকে অ্যাডভোকেট কমিশন নিয়োগ করা হয়।
বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনায় পুলিশ ও অ্যাডভোকেট কমিশন উচ্ছেদ করতে গিয়েছিল। সেখানে জেলা প্রশাসনের কেউ ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় আমাদের কাছে তথ্য নেই।’ ১৭ বিঘা অর্পিত সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে কোনো নির্দেশনা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটাও আমার পর্যায় পর্যন্ত আসেনি।’