রাজশাহীর প্রশাসন আম সংগ্রহের তারিখ ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করেছে গত এপ্রিলে। কিন্তু তার তোয়াক্কা না করেই দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলায় অপরিপক্ব আম নামাতে শুরু করেছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এমনকি জেলার সবচেয়ে বড় আমবাজার বানেশ্বর হাটেও মিলছে আম।
অভিযোগ উঠেছে, অধিক মুনাফার আশায় এসব কাঁচা আম বাগান থেকে পেড়ে গোপন স্থানে কেমিক্যালের মাধ্যমে পাকানো হচ্ছে। পরে ‘রাজশাহীর আগাম পাকা আম’ হিসেবে বাজারজাত করে সাধারণ ক্রেতাদের প্রতারিত করা হচ্ছে।
দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ আগ থেকে অনেক বাগানে আম পাড়ার তোড়জোড় চলছে। অথচ বাগানগুলোতে এখনো আম পাকতে শুরু করেনি।
গতকাল সোমবার পুঠিয়া উপজেলার শিবপুর এলাকায় ভ্যানগাড়িতে আম নিয়ে যাচ্ছিলেন জাহিদুল ইসলাম। কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি জানান, বাজারে বিক্রির জন্য আমগুলো তিনি নিয়ে যাচ্ছেন। মোবাইল ফোনে এক ব্যাপারীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁকেই আমগুলো তিনি দেবেন।
এদিকে, গত রোববার জেলা প্রশাসন থেকে আম পাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে সব ধরনের গুটি আম নামানো যাবে। এরপর ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানিপছন্দ ও লক্ষণভোগ, ৩০ মে থেকে হিমসাগর বা ক্ষীরসাপাত, ১০ জুন থেকে ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি নামানো যাবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর রাজশাহীতে প্রায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার টন।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহারা শারমিন লাবনী বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ের আগে আম পাড়া সম্পূর্ণ অবৈধ। অধিক মুনাফার আশায় অপরিপক্ব আম পাড়া ও কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ পেলে আমরা কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব।’
জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, জেলার সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে বানেশ্বরে। ১৫ মে থেকে গুটি আম আসবে বাজারে। আমে যাতে কেউ কেমিক্যাল মেশাতে না পারে এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে।
নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ের আগে গাছ থেকে আম ভাঙা ও বানেশ্বর বাজারে আম উঠছে কি না এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’