নাটোরের লালপুরে চায়না বেলি ফুল চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই। এ কাজের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৬০ হাজার নারী-পুরুষের ভাগ্য বদলে গেছে। এলাকার সূত্রে জানা যায়, এখানকার নারীরা ঘরের কাজ শেষে বেলি ফুলের মালা গেঁথে অর্থ উপার্জন করেন। তাঁদের এই বাড়তি উপার্জন পরিবারে সচ্ছলতা এনে দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিন নবীনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শিশিরভেজা সকালে ফুল তোলায় ব্যস্ত নারী ও শিশুরা। গাছ থেকে ফুল তুলে এনে বাড়ির বারান্দায়, উঠানে, বাড়ির আঙিনার খোলা জায়গায় মাদুর বিছিয়ে মনের আনন্দে মালা গাঁথছেন তাঁরা।
এলাকার ফুলচাষি ও শ্রমিকেরা বলেন, 'বেলি ফুলের মৌসুমে (মার্চ-নভেম্বর) প্রতিদিন ২০ হাজারের অধিক মালা তৈরি হয়। আর এই মালা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ সারা দেশে পাঠানো হয়। ৬ ফুট লম্বা মালা বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।'
নবীনগর গ্রামে বেলি ফুল চাষের উদ্যোক্তা মো. আবদুল আজিজ (৫৫) জানান, তিনি ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ বন্দর এলাকা থেকে ফুলগাছের চারা আনেন এবং এরপর নিজের পাঁচ কাঠা জমিতে চাষ শুরু করেন। পরে আরও দুই বিঘা জমি কেনেন। এখন তিনি প্রায় ১৮ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে ফুলের চাষ করছেন। এখান থেকে প্রতিদিন ৮-১০ হাজার মালা দেশের বিভিন্ন জায়গায় আড়তে বিক্রি করেন।
আনোয়ারা খাতুন (৫২) বলেন, 'দিনে দেড় শ পর্যন্ত মালা গাঁথা সম্ভব। ফুলের কুঁড়ি কম থাকলে দিনে ৪০ থেকে ৬০টি মালা গাঁথা যায়।'
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'উপজেলায় ১৩ হেক্টরের অধিক জমিতে চায়না বেলি ফুলের চাষ হয়েছে। এই ফুল চাষে ওই গ্রামের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। ভবিষ্যতে ফুল বাজারজাত করতে স্থায়ী কৃষি মার্কেট স্থাপন করা হবে।'