পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট নৌপথে যাত্রী এবং যানবাহন পারাপারের জন্য ১৬টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ চলাচল করবে। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও ঘাট কর্তৃপক্ষ।
আজ রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ফেরি, লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌযান সুষ্ঠুভাবে চলাচল ও ঘাট ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত সমন্বয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ১৬টি ফেরি চলাচল করবে এবং সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে তিনটি ঘাট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আশা করছি, ঈদ যাত্রায় কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা সম্ভব হবে।
আরিচা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ২০টি লঞ্চ চলাচল করবে। লঞ্চে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী না ওঠে সেদিকে কঠোর নজরদারি থাকবে। তিনটি ফেরিঘাট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়কে ধুলাবালি কমাতে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পন্টুনে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, ঈদের সময় যানবাহন ও যাত্রীর চাপ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। ফেরিঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, চাঁদাবাজি ও অজ্ঞান পার্টির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি থাকবে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাট এলাকায় রাতের আলোর ব্যবস্থা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও র্যাবের উপস্থিতি থাকবে। আশা করছি, যাত্রীদের ভোগান্তিহীন ঈদযাত্রা উপহার দিতে পারব।’
রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ঈদ এলেই লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের ঘটনা দেখা যায়, যা আমরা চাই না। লঞ্চ বা ফেরিতে ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী তোলা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, বাসে যাত্রীদের সঙ্গে যেন কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার না করা হয় এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।