পিরোজপুরের নেছারাবাদে বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেওয়া সেই শিশুকে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন তার মা লিজা আক্তার। নবজাতকের বাবা তাকে ফেলে দিতে বললেও সব বাধা উপেক্ষা করে সেই সন্তানকে বাঁচিয়ে রেখে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন মা লিজা।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে আজকের পত্রিকাকে দিনমজুর লিজা আকতার জানান, তিনি তাঁর সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়াতে চান এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী লালন-পালন করবেন।
২২ এপ্রিল উপজেলার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় একটি ছেলে শিশু। যার দুটি পা ও একটি হাত নেই। সন্তানটি বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেওয়ায় বাবা আল আমীন তাকে ফেলে দিতে বা অন্যের কাছে দিয়ে আসতে বলেন। তবে স্বামীর এমন নিষ্ঠুর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে সন্তানকে বুকে আগলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন লিজা।
জানা গেছে, উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামের বাসিন্দা লিজা ঢাকায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্বামী আল আমীন দিনমজুর। তাঁদের সংসারে আগে থেকে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অভাবের সংসারে লিজা নিজের পরিশ্রমেই পরিবার চালাতে সহায়তা করেন। ২১ এপ্রিল গ্রামে ফিরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাম করে তিনি জানতে পারেন, গর্ভের শিশুর একটি হাত নেই এবং অবস্থানও জটিল। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ২২ এপ্রিল অস্ত্রোপচার করা হয়।
লিজা বলেন, ‘আমার সন্তানকে আমি কোথাও ফেলব না। যত কষ্টই হোক, নিজের পরিশ্রমে ওকে মানুষ করব। স্বামী যদি আমাকে না রাখে, তাতেও সমস্যা নেই—এই সন্তানকেই নিয়েই বাঁচব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার একটাই কষ্ট—আমি বেঁচে থাকতে ওকে দেখাশোনা করতে পারব। কিন্তু আমি মরে গেলে কে ওকে দেখবে, কে খাওয়াবে?’
সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্নের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমার সন্তান মাদ্রাসায় পড়ুক। সবাই আমার সন্তানের জন্য দোয়া করবেন।’
এদিকে লিজার বাবা মো. আব্দুর করিম বাহাদুর বলেন, ‘আমার মেয়ে খুব গরিব। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। নাতি বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মেছে বলে জামাই তাকে ফেলে দিতে বলেছে। এখন এ দায় আমাদেরই নিতে হবে।’