গণপরিবহনে নানা বিড়ম্বনা ও হয়রানির অভিজ্ঞতা নারীদের কাছে নতুন কিছু নয়। তাঁদের এই ভোগান্তি লাঘবে স্কুটি চালানো শেখাকে একটি বড় সমাধান হিসেবে মনে করেন পটুয়াখালীর এক স্কুলশিক্ষিকা ওহিদা পাপড়ি। তিনি নিজে স্কুটি চালাতে পারেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নারীদের স্কুটি শেখানোর কর্মশালা শুরু করেন তিনি। গত পাঁচ বছরে পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৫০০ নারী তাঁর কাছ থেকে স্কুটি চালানো শিখেছেন। বর্তমানে তিনি পটুয়াখালী শহরে নারীদের স্কুটি চালানো শেখাচ্ছেন।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন ওহিদা পাপড়ি।ওহিদা পাপড়ি বলেন, ২০২০ সালে তিনি স্বামীর কাছ থেকে স্কুটি চালানো শেখেন। এরপর নিজেই স্কুটি চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত শুরু করেন। তিনি ভাবেন, স্কুটি চালানো শিখলে তাঁর মতো অন্য নারীরাও উপকৃত হবেন। এই ভাবনা থেকে
তিনি নারীদের স্কুটি চালানো শেখানো শুরু করেন। শুধু কর্মজীবী নারী নয়, অনেক গৃহিণীও সংসারের প্রয়োজনে তাঁর কাছে স্কুটি চালানো শিখছেন।
পটুয়াখালী শহরের বাসিন্দা এক প্রশিক্ষণার্থী ব্র্যাকের কর্মকর্তা সাবেকুন নাহার রুপা বলেন, ‘আগে কোথাও যেতে হলে বাস বা অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন নিজে স্কুটি চালিয়ে অফিস ও প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করতে পারছি, এতে সময়ও বাঁচছে।’
সদর উপজেলার উত্তর তিতকটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদিয়া সুলতানা বলেন, ‘গ্রামে স্কুলে চাকরি করার সুবাদে খুব সকালে বাসা থেকে বের হয়ে যানবাহন পেতে ভোগান্তি পোহাতে হতো। এখন আমি পাপড়ি আপার কাছে থেকে স্কুটি চালানো শিখছি এবং নিজেই স্কুটি চালিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করছি।’
ওহিদা পাপড়ি বলেন, ‘নারীদের এগিয়ে যাওয়ার নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যানবাহন কিংবা গণপরিবহন ব্যবহার। আর সেই প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতেই নারীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।’
পটুয়াখালী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রওজাতুন জান্নাত বলেন, ‘যাঁরা স্কুটি চালানো শিখছেন, তাঁদের ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা হবে।’