পঞ্চগড় সদর উপজেলার জালাসি এলাকায় শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে টিফিন বিরতির সময় স্কুল মাঠে কয়েক শিশু ফুটবল খেলছিল। খেলতে গিয়ে একসময় বলটি পাশের একটি বাড়িতে পড়ে যায়। আর শুধু এই কারণে ছোট ছোট শিশুদের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করলেন বাড়ির গৃহকর্ত্রী।
আহত শিক্ষার্থীরা হলো বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির রেজওয়ান খান অপূর্ব ও মিম হোসেন এবং চতুর্থ শ্রেণির তাওহীদ হাসান আশিক।
আহতদের প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, টিফিন বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা স্কুল মাঠে ফুটবল খেলছিল। একপর্যায়ে বলটি বিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি বাড়িতে গিয়ে পড়ে। এ সময় বাড়ির মালিক জয়তুন বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। শিশুদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়।
শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা জান্নাতুল পারভীন বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সব সময় আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফল করে। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন বিরতির সময় মাঠে খেলাধুলা করে। আজ বলটি পাশের বাড়িতে যাওয়ার পর ওই মহিলা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন বলে তারা আমাকে জানায়। শিক্ষার্থীরা কান্নাকাটি করছিল এবং তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
আহত শিক্ষার্থী তাওহীদ হাসান আশিকের বড় ভাই আবির বলেন, “প্রতিবেশীরা যদি শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ করে, তাহলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে ভয় পাবে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জয়তুন বেগমের স্বামী হাচান আলী বলেন, “আমার স্ত্রী আমাকে জানিয়েছে, ফুটবল গিয়ে রান্নাঘরে পড়েছিল। তাই সে রাগ করে রান্নার কাজে ব্যবহৃত লাঠি দিয়ে শিশুদের আঘাত করেছে।”
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”