ভিজিডি কার্ড, পানির পাম্প ও সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা সোহেল রানার বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত না পেয়ে এবং প্রতারণা বুঝতে পেরে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা তাঁকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় শুক্রবার (৫ জুন) রাতে ঘটেছে এমন ঘটনা। অভিযুক্ত সোহেল রানা উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে উপজেলার রাঙ্গালিয়া, পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা, পারভাঙ্গুড়া ও ভাঙ্গুড়া বাজার এলাকার অনেকের কাছ থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেন সোহেল রানা। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রতিশ্রুত সুবিধা না পাওয়ায় সন্দেহ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী সোহেল আহমেদ বলেন, ‘সরকারি চালের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো কার্ড দেননি ওই নেতা।’
হোটেলের কর্মী তায়জাল হোসেন বলেন, ‘সরকারি ঘর দেওয়ার আশ্বাসে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার প্রমাণও আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ঘর পাইনি।’
ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের দাবি, এমনভাবে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাত থেকে আট মাস পার হলেও কোনো সরকারি সুবিধা মেলেনি। এই অবস্থায় শুক্রবার রাতে কয়েকজন ভুক্তভোগী ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সোহেল রানাকে আটক করেন। পরে তাঁকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সোহেল রানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর স্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বামী চিটার সবাই জানে। কিন্তু লোকজন টাকা দিছে কেন। যেহেতু তারা মারছে। তাই টাকা পরিশোধ।’
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, সরকারি সুবিধা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তাদের কাছেও অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাফর ইকবাল হিরোক এ বিষয়ে বলেন, ‘সোহেল রানার বিরুদ্ধে এর আগেও এমন অভিযোগের কথা শুনেছি। মানুষের কাছ থেকে টাকাপয়সা নিয়েছেন। ইতিমধ্যে তাঁকে আমাদের দলের সঙ্গে কর্মকাণ্ড চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। দ্রুতই তাঁর বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’