পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ এলাকায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের বাইরে এই ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রশিবিরের হামলায় কলেজ ছাত্রদলের দখলে থাকা একটি ঘর ভাঙচুর ও বিএনপির ব্যানার তছনছ করা হয়। অপর দিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও সংঘটিত হয়ে কলেজ ক্যাম্পাস দখলে নেন, ইটপাটকেল ছোড়েন এবং শহরে বিক্ষোভ করেন। দুই ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষের ফলে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে চলমান ক্লাস পরীক্ষা ও ক্লাসে পাঠদান ব্যাহত হয়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে দেয়ালে গ্রাফিতি নিয়ে সৃষ্ট ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ব্যানারে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণা অনুযায়ী আজ সকাল থেকে কলেজ চলাকালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরও আজ কলেজে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে কর্মসূচি ঘোষণা করে। দুই ছাত্রসংগঠনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলেজ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কলেজ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। এ সময় হাসপাতালের পেছনে ভেতরের সড়ক দিয়ে ছাত্রশিবিরের একটি মিছিল কলেজ গেট এলাকায় আসার সময় কে বা কারা পাথর নিক্ষেপ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজীব হাসানের অভিযোগ, ‘শিবিরকে “গুপ্ত” বলে আমাদের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটাচ্ছে ছাত্রদল। আমরা আজ ছাত্রদের নিয়ে বিক্ষোভ করার সময় ঘোষণা করেছি। কিন্তু আমাদের মিছিলকে উদ্দেশ করে ইটপাটকেল ছোড়েন ছাত্রদলের কর্মীরা। আমরা সেটা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তাঁরা আমাদের উদ্দেশ করে গুলি ছুড়েছেন।’
ঈশ্বরদী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ বিন প্রার্থী অভিযোগ করেন, ‘ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা কলেজে বিক্ষোভ করবে এতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে আমাদের কাছে তথ্য আছে, তারা বহিরাগতদের নিয়ে কলেজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে। সেই তথ্য অনুযায়ী শিবির বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আমাদের অফিস ভাঙচুর করেছে। ককটেল হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।’
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, দুই ছাত্রসংগঠনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনের সময় উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয় এবং সংঘর্ষ বাধে। তবে আগে থেকে সেখানে পুলিশ অবস্থান নেওয়ায় বড় ধরনের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘কলেজ ক্যাম্পাস এলাকার বাইরে ঘটনাটি ঘটেছে। তবু ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তায় আমরা সচেষ্ট ছিলাম। কলেজের পরিস্থিতি এখন শান্ত।’