পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আব্দুর রহিম খান (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে জড়িত ব্যক্তিরা লাশটি একটি বাগানের উচুঁ গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখে বলে দাবি পরিবারের।
পাবনা প্রেসক্লাবে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত আব্দুর রহিমের মেয়ে অ্যাডভোকেট রুমি খাতুন লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহত ব্যক্তির আরেক মেয়ে সোমা খাতুন ও ছেলে জাহাঙ্গীর খান দিপু।
সংবাদ সম্মেলনে রুমি খাতুন বলেন, ২২ জুন সকালে উপজেলার বিরাহীমপুর এলাকার একটি আম-লিচুর বাগান থেকে আব্দুর রহিম খানের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মেয়ে রুমি খাতুন ২৩ জুন আমিনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় মো. আব্দুল করিম খান (৫০) ও মো. আব্দুল আলীমের (৫৫) নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয়ের কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
রুমি খাতুন অভিযোগ করেন, আসামিরা ১০ বছর ধরে তাঁদের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা ও পরিবারটির ওপর নানাভাবে অত্যাচার চালিয়ে আসছে। কয়েক মাস ধরে তাঁর বাবাকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল, যা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। পরিবারের আশঙ্কা, হত্যার আগে আসামিরা জোরপূর্বক কোনো দলিলের মাধ্যমে বাড়ির জমি লিখে নিয়ে থাকতে পারে।
নিহত ব্যক্তির পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০ জুন কোনো এক সময় আব্দুর রহিম খানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়। ২২ জুন সকালে বাগানের মালি বিরাহীমপুরের আবুল কাশেমের বাগানে আমগাছের সঙ্গে লাশটি ঝুলতে দেখেন।
পুলিশ সূত্র বলেছে, চিকিৎসকের প্রাথমিক মেডিকেল রিপোর্টে মৃত্যুর আগে ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে শারীরিক নির্যাতনের আলামতের উল্লেখ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রুমি খাতুন বলেন, ‘আমার বাবাকে অন্য কোথাও নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ বাগানে এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
এ ব্যাপারে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।