নোয়াখালীর হাতিয়ায় জেলে বাবার জন্য খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে মেঘনা নদীতে নিখোঁজ হওয়া শিশু তামিমের (৬) সন্ধান মেলেনি ২৪ ঘণ্টায়ও। বুধবার সকালে ভোলা থেকে আসা কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামের পাশের মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ তামিম ওই গ্রামের জেলে শাহাদাত হোসেনের একমাত্র ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান শাহাদাত হোসেন। দুপুরে বাবার জন্য খাবার নিয়ে নদীর তীরে যায় তামিম। খাবার খাওয়ার পর শাহাদাত হোসেন নদীর পাড়ে উঠে চা পান করছিলেন। এ সময় তামিম তার সমবয়সী এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে নদীর তীরে খেলছিল।
একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তামিম নদীতে পড়ে যায়। সঙ্গে থাকা চাচাতো ভাই বিষয়টি দেখে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাননি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও হাতিয়ায় ডুবুরি দল না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পানির নিচে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে উদ্ধার কার্যক্রমে বিলম্ব হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মন্নান বলেন, ‘একটি শিশু নদীতে নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাকে উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ডুবুরি দল না থাকায় সবাইকে অপেক্ষা করতে হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ‘হাতিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের কোনো ডুবুরি দল নেই। এ কারণে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। তবে বুধবার সকালে ভোলা থেকে কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে।’
বুধবার সকাল থেকে ডুবুরি দল মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছে। কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বেলা পৌনে তিনটা) নিখোঁজ শিশু তামিমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হয়ে উঠেছেন তামিমের মা-বাবা। তাঁদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামের পরিবেশ। প্রতিবেশীরা পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও স্বজনদের চোখে-মুখে এখন শুধুই উৎকণ্ঠা আর অপেক্ষা।