নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বৃদ্ধসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার (৪ মে) বিকেলে এ ঘটনায় হাতিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সাগরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের আলাউদ্দিন মাঝি ও তাঁর ফুফাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার সামাজিক বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইসমাইল হোসেনের কালক্ষেপণের কারণে তা কার্যকর হয়নি।
এরই জেরে গতকাল সকালে ইসমাইল হোসেনের লোকজন আলাউদ্দিন মাঝির পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পাঁচজনকে গুরুতর জখম করা হয়। আহত ব্যক্তিদের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁদের নোয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান।
আহত আলাউদ্দিন মাঝি অভিযোগ করেন, ‘আমার ফুফাতো ভাই ইসমাইল, ইলিয়াস, রহিম, রাজিবসহ আরও কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে মারধর করে অজ্ঞান করে ফেলে। এ সময় আমার হাত, পা ও কোমরে গুরুতর আঘাত করে। আমার বৃদ্ধ বাবাকেও মারধর করা হয় এবং প্রতিবেশী মিরাজের মাথায় কুপিয়ে জখম করা হয়, এমনকি তার হাত ভেঙে দেওয়া হয়।’
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ওয়াহিদুর রহমান জানান, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের মাথা, হাত, পা, কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত নুরুল ইসলাম ও মিরাজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।