ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী ৮ মার্চ লঞ্চের কেবিনে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকার কোতোয়ালি থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার নোয়াখালীর হাতিয়ায় পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এনসিপি ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মিছিল মুখোমুখি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে আহত হন সাতজন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, পৌরসভা যুবদল নেতা আশিক, সাখাওয়াত হোসেন হিরো। অপর দিকে হাতিয়া উপজেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব ও সমর্থক জহির উদ্দিন আহত হন।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন বলেন, বিক্ষোভ মিছিলে উভয় পক্ষের হাতাহাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয় সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, ৮ মার্চ দুপুরে হাতিয়ার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাওয়া ফারহান-৪ লঞ্চের কেবিনে কলেজছাত্রীকে তুলে দেন তাঁর বাবা। ঠিক একই সময় ওই লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে লঞ্চে ওঠেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু। লঞ্চ ছাড়ার কিছু সময় পর তাঁরা ওই কলেজছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন।
এরপর তাঁরা কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করে তাঁর বেডে বসেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে সাকিব উদ্দিন তাঁকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর গলা ও মুখ চেপে ধরেন। এ সময় মিঠু তাঁর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যান। পরে সাকিব উদ্দিন কেবিনের দরজা বন্ধ করে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় ঢাকার কোতোয়ালি থানা মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় ভুক্তভোগী চিৎকারের চেষ্টা করলে সাকিব উদ্দিন ঘটনাটি কাউকে জানালে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেন এবং কেবিন থেকে বের হয়ে যান। পরে রাত ৮টার দিকে সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করলে ভুক্তভোগী চিৎকারের চেষ্টা করেন। তখন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তাঁরা আবারও ধর্ষণ করে। বর্তমানে ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। ঘটনার পর ৯ মার্চ সোমবার সকালে ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) এবং একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জোটখালী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)।
লঞ্চে ধর্ষণ ও ঢাকার কোতোয়ালি থানায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন।